সাধারণ চেহারার হিরো স্প্লেন্ডর বাইক কেন এত জনপ্রিয়

প্রকাশিত: ৪:৩৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

বাইক কেনার সময় অনেকেই চান এমন একটি মডেল, যা দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিনের যাতায়াতে খরচও কম রাখবে। আর এই জায়গাতেই দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত নাম হিরো স্প্লেন্ডর। অফিসে যাওয়া, বাজার করা কিংবা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় নিয়মিত চলাচল সব ক্ষেত্রেই ব্যবহারিক বাইক হিসেবে স্প্লেন্ডরের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এর মূল আকর্ষণ অবশ্যই কমিউটার-কেন্দ্রিক নকশা, তুলনামূলক হালকা ওজন এবং ছোট ইঞ্জিন।

৯৭.২ সিসির ইঞ্জিন

বাংলাদেশে হিরো স্প্লেন্ডর+ মডেলে রয়েছে ৯৭.২ সিসির এয়ার-কুলড, ৪-স্ট্রোক, সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ওএইচসি ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিন সর্বোচ্চ ৬.১৫ কিলোওয়াট বা ৮.৩৬ পিএস শক্তি এবং ৮.০৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। সঙ্গে রয়েছে ৪-স্পিড কনস্ট্যান্ট-মেশ গিয়ারবক্স। ফলে বাইকটি মূলত দৈনন্দিন শহুরে যাতায়াতকে মাথায় রেখেই তৈরি।

আরও পড়ুন

সন্তানকে কখন বাইক কিনে দেবেন, সঠিক বয়স কত?

মাইলেজের দিকে নজর

কমিউটার বাইকের ক্ষেত্রে মাইলেজ অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। স্প্লেন্ডরের ছোট ইঞ্জিনের অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো প্রতিদিনের যাতায়াতে জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে বাস্তবে কত মাইলেজ পাওয়া যাবে, তা রাস্তার অবস্থা, গতি, ট্রাফিক, বাইকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালানোর ধরনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। তাই সংস্থার ঘোষিত বা পরীক্ষাগারের মাইলেজকে বাস্তব ব্যবহারের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা ঠিক নয়।

সহজ-সরল ডিজাইন

স্প্লেন্ডরের নকশায় খুব বেশি আক্রমণাত্মক বা স্পোর্টি ভাব নেই। বরং সাধারণ কমিউটার বাইকের মতোই এর ডিজাইন। এই সরলতাই অনেক ব্যবহারকারীর কাছে সুবিধার। বাইকটির দৈর্ঘ্য ২,০০০ মিমি, প্রস্থ ৭২০ মিমি এবং হুইলবেস ১,২৩০ মিমি। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স ১৫৯ মিমি এবং ইলেকট্রিক-স্টার্ট সংস্করণের কার্ব ওয়েট প্রায় ১১২.৩ কেজি। ফলে শহরের রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলক সহজ।

সাসপেনশন ও ব্রেক

সামনে টেলিস্কোপিক হাইড্রোলিক শক অ্যাবজর্বার এবং পেছনে ৫-ধাপ অ্যাডজাস্টেবল হাইড্রোলিক শক অ্যাবজর্বার রয়েছে। খারাপ রাস্তা বা ছোটখাটো গর্তের ধাক্কা সামলানোর ক্ষেত্রে এই সেটআপ গুরুত্বপূর্ণ। সামনে ও পেছনে ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেক এবং টিউবলেস টায়ারও রয়েছে।

আরও পড়ুন

হুটহাট বৃষ্টিতে ইলেকট্রিক স্কুটার ভালো রাখতে যেসব ভুল করবেন না

১০ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক

বাইকটিতে প্রায় ১০ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে। ফলে প্রতিদিনের যাতায়াতের ক্ষেত্রে বারবার জ্বালানি নেওয়ার প্রয়োজন কিছুটা কমতে পারে। তবে কতদিন পরপর জ্বালানি নিতে হবে, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে বাইকটি দিনে কত কিলোমিটার চালানো হচ্ছে এবং বাস্তবে কত মাইলেজ পাওয়া যাচ্ছে তার ওপর।

বাংলাদেশে দাম কত?

হিরো মটোক্রপের বাংলাদেশি ওয়েবসাইটে বর্তমানে স্প্লেন্ডর+ এর দাম ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা থেকে শুরু দেখানো হয়েছে। সেখানে স্প্লেন্ডর+ আইবিএস আই৩এস-এর এক্স-শোরুম দাম ১ লাখ ২৩ হাজার টাকা এবং স্প্লেন্ডর+ এসই-এর দাম ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন, বিমা ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে অন-রোড দাম আলাদা হবে।

হিরো স্প্লেন্ডরের মূল দর্শন খুব সহজ অতিরিক্ত জটিলতা নয়, বরং প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন, আরাম, ব্যবহারিক ডিজাইন এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের দিকে গুরুত্ব। সে কারণেই কমিউটার বাইকের বাজারে স্প্লেন্ডর নামটি এখনো পরিচিত।

কেএসকে