জ্বালানি খরচ কমাতে গাড়িতে এসি চালাবেন নাকি বন্ধ রাখবেন? প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ গরমের দিনে গাড়িতে উঠেই অনেকের হাত চলে যায় এসির সুইচের দিকে। আবার জ্বালানি খরচের কথা মনে পড়লে কেউ কেউ এসি বন্ধ করে জানালা খুলে দেন। প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি এসি বন্ধ রাখলেই গাড়ির জ্বালানি খরচ কমে? উত্তর হলো সব সময় নয়। গাড়ির গতি ও পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে কখন এসি ব্যবহার করা বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে। গাড়ির এসি চালালে ইঞ্জিনকে অতিরিক্ত শক্তি সরবরাহ করতে হয়। কারণ এসি কম্প্রেসর চালানোর জন্য ইঞ্জিনের শক্তির একটি অংশ ব্যবহৃত হয়। ফলে সাধারণ পরিস্থিতিতে এসি চালু থাকলে জ্বালানি খরচ কিছুটা বাড়তে পারে। বিশেষ করে গাড়ি থেমে থাকা অবস্থায় বা ধীরগতিতে চলার সময় এসির প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি অনুভূত হতে পারে। আরও পড়ুন গাড়ির এসিতে ঠান্ডা কম হচ্ছে, যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন তবে এর মানে এই নয় যে এসি বন্ধ করে সবসময় জানালা খুলে গাড়ি চালালেই জ্বালানি বাঁচবে। গাড়ি যখন বেশি গতিতে চলে, তখন খোলা জানালা দিয়ে বাতাস সরাসরি গাড়ির ভেতরে ঢোকে। এতে গাড়ির বায়ুগত প্রতিরোধ বা ড্র্যাগ বাড়তে পারে। ফলে ইঞ্জিনকে গাড়ি চালিয়ে রাখতে অতিরিক্ত শক্তি দিতে হয়। এই পরিস্থিতিতে জানালা পুরোপুরি খুলে রাখার বদলে এসি ব্যবহার করাই অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর হতে পারে। বিশেষ করে মহাসড়কে বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর সময় জানালা খোলা রাখলে বায়ুর প্রতিরোধ বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই দীর্ঘ দূরত্বে দ্রুতগতিতে চলার সময় জানালা বন্ধ রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী এসি ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত। অন্যদিকে শহরের যানজট, সিগন্যাল কিংবা ধীরগতির রাস্তায় গাড়ির গতি কম থাকে। এ সময় জানালা বন্ধ রেখে এসি চালানোর কারণে কম্প্রেসরের অতিরিক্ত লোড জ্বালানি খরচে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রচণ্ড গরমে জানালা খুলে দিলেই যে বড় ধরনের সাশ্রয় হবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। জ্বালানি বাঁচাতে এসি ব্যবহারের কিছু কৌশল অনুসরণ করা যায়। গাড়িতে ওঠার পর ভেতরে প্রচণ্ড গরম থাকলে প্রথমে কিছুক্ষণ জানালা খুলে গরম বাতাস বের করে দেওয়া যেতে পারে। এরপর জানালা বন্ধ করে এসি চালালে তুলনামূলক দ্রুত ঠান্ডা করা সম্ভব হয়। এসির তাপমাত্রা খুব কমিয়ে রাখারও প্রয়োজন নেই। আরামদায়ক মাঝারি তাপমাত্রায় এসি চালানো যেতে পারে। আরও পড়ুন গাড়ির স্পেয়ার টায়ার ছোট হয় কেন জানেন? এছাড়া গাড়ির এসি ফিল্টার পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। নোংরা বা আটকে থাকা ফিল্টারের কারণে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে কুলিংয়ের কার্যকারিতা কমতে পারে এবং এসিকে বেশি সময় কাজ করতে হতে পারে। গাড়ির নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও জ্বালানি দক্ষতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি বিষয় হলো, গাড়ির ধরনভেদে এসি ব্যবহারে জ্বালানি খরচের প্রভাব আলাদা হতে পারে। আধুনিক গাড়িতে এসির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আগের তুলনায় উন্নত। আবার হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়িতে এসি ব্যবস্থার প্রযুক্তিও ভিন্ন হতে পারে। তাই জ্বালানি বাঁচানোর সহজ নিয়ম হলো গাড়ির গতি ও পরিবেশ বুঝে এসি ব্যবহার করা। ধীরগতির শহুরে যাত্রায় প্রয়োজন না হলে এসি বন্ধ রাখা যেতে পারে। কিন্তু দ্রুতগতির রাস্তায় জানালা পুরোপুরি খুলে গাড়ি চালানোর বদলে জানালা বন্ধ রেখে পরিমিতভাবে এসি ব্যবহার করা অনেক সময় বেশি যুক্তিযুক্ত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শুধু এসি বন্ধ রাখলেই জ্বালানি খরচ নাটকীয়ভাবে কমে যাবে এমন ধারণা ঠিক নয়। গাড়ির গতি, টায়ারের চাপ, অতিরিক্ত ওজন, চালানোর ধরন এবং গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণও জ্বালানি খরচে বড় ভূমিকা রাখে। তাই সাশ্রয়ীভাবে গাড়ি চালাতে হলে এসি নিয়ে সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পুরো ড্রাইভিং অভ্যাসের দিকেও নজর দিতে হবে। কেএসকে Download PhotoCard SHARES তথ্য প্রযুক্তি বিষয়: জ্বালানি খরচ কমাতে গাড়িতে এসি চালাবেন নাকি বন্ধ রাখবেন?