নৌযান চার্টারে বাড়বে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি প্রকাশিত: ১১:১২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতি ও আধুনিক নৌপরিবহনব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) নৌযান চার্টার প্রদানের বিদ্যমান নীতিমালা যুগোপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন নীতিমালায় নৌযান চার্টারের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর পাশাপাশি সংস্থার রাজস্ব বৃদ্ধি, সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহার ও সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ‘বিআইডব্লিউটিসি নৌযান চার্টার নীতিমালা ২০২৬’-এর খসড়া নিয়ে সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে একটি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রস্তাবিত নীতিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. জাকারিয়া, বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা অংশ নেন। সভায় কর্মকর্তারা বলেন, দেশের নৌপরিবহন খাতে চাহিদা ও বাজার পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নৌযান চার্টার ব্যবস্থাপনাকেও আধুনিক ও কার্যকর করা প্রয়োজন। এ কারণে বিদ্যমান নীতিমালা পর্যালোচনা করে নতুন কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত নীতিমালায় নৌযান চার্টারের প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একই সঙ্গে চার্টার কার্যক্রমের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিসির রাজস্ব আয় বাড়ানো, গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং সরকারি নৌযানের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিআইডব্লিউটিসির নৌযান রাষ্ট্রীয় সম্পদ। তাই এসব নৌযান চার্টারে দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়, জাতীয় স্বার্থ, সংস্থার আর্থিক সক্ষমতা এবং নৌযানের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন নীতিমালায় বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সভায় বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান এ টি এম আব্দুল বারী ডেনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে বিআইডব্লিউটিসির নৌযান চার্টারের ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ ও সংস্থার আর্থিক সক্ষমতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি অংশীজনদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আধুনিক ও সময়োপযোগী নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, এমন একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সংস্থার আর্থিক স্বার্থও সুরক্ষিত থাকে। একই সঙ্গে চার্টার গ্রহীতাদের প্রয়োজনীয় সেবা দ্রুত ও সহজভাবে দেওয়ার সুযোগ রাখতে হবে। সভায় কর্মকর্তারা আরও বলেন, নৌযানের অব্যবহৃত সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে তা বিআইডব্লিউটিসির আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য চার্টার প্রদানের শর্ত, প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব আরও স্পষ্ট করা প্রয়োজন। চার্টার প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর ওপরও সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রক্রিয়াটি যত বেশি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক হবে, সরকারি সম্পদের ব্যবহার তত কার্যকর হবে এবং অংশীজনদের আস্থাও বাড়বে। এ ছাড়া নৌপরিবহন খাতের পরিবর্তিত বাস্তবতা ও গ্রাহকদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেবা দেওয়ার বিষয়টিও নতুন নীতিমালায় রাখা হচ্ছে। এতে একদিকে চার্টার গ্রহীতাদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ হবে, অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সভায় খসড়া নীতিমালার বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে আলোচনা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মতামত ও পরামর্শ দেন। এসব মতামত পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে খসড়াটি দ্রুত চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। Download PhotoCard SHARES জাতীয় বিষয়: জবাবদিহিনৌযান চার্টারে বাড়বে স্বচ্ছতা