চাকরি পেতে নেতার ফোন কেন, প্রশ্ন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

প্রকাশিত: ১১:০৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতার বদলে রাজনৈতিক পরিচয়, সুপারিশ ও নেতার ফোনের প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থী বাদপড়া এবং সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে রোববার (২৬ সেপ্টেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ বিষয়ে উদ্বেগ জানান।

পোস্টে তিনি লেখেন, ‘একজন তরুণ বছরের পর বছর পড়াশোনা করেন। পরীক্ষা দেন। লিখিত পাস করেন। ভাইভা পাস করেন। এরপরও যদি চাকরিতে ঢোকার আগে তাকে ভাবতে হয়, তার পরিবারের কেউ কোন রাজনীতি করেন, স্থানীয়ভাবে কে তার পক্ষে কথা বলবেন, কিংবা কোন নেতার কাছে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যেতে হবে, তাহলে সমস্যাটা শুধু একটি চাকরির নয়। সমস্যাটা পুরো নিয়োগব্যবস্থার।’

তিনি লেখেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এমন প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষাসহ নিয়োগের ধাপ পেরিয়ে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের কারণে বিভিন্ন জেলার বহু প্রার্থী বাদ পড়েছেন। বাদ পড়ার সংখ্যাটি অন্তত এক হাজার। অথচ নিয়োগের শুরুতে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশ ভেরিফিকেশনের যে শর্ত জানানো হয়েছিল, সেখানে নাশকতা, সন্ত্রাসী, জঙ্গি বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণকে অনুপযুক্ততার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।’

তিনি আরও লেখেন, ‘এর মধ্যেই সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর বড় আকারে বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে ৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। সরকার বলছে, এর উদ্দেশ্য দক্ষ ও উপযুক্ত জনবল বাছাই করা। অন্যদিকে এই পরিবর্তন রাজনৈতিক প্রভাব, লবিং ও স্বজনপ্রীতির সুযোগ বাড়াবে।’

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর লেখেন, ‘এই উদ্বেগকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য। লিখিত পরীক্ষায় পাস করা চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, অ্যাডমিট কার্ড তার কাছে নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় জায়গায় তিনি ফোন করে দেবেন।
বৈষম্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েই এ দেশের তরুণেরা এক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে। বিএনপিও যদি চাকরির পরীক্ষায় মেধার বদলে দলীয় পরিচয়, সুপারিশ আর নেতার ফোনের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনে, তাহলে তাদের মনে রাখা উচিত। তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে সেই তরুণেরাই রাজপথ ও ব্যালটে এর রাজনৈতিক জবাব দেবে।’

‘জুলাইয়ের পর আমরা যদি সত্যিই একটি নতুন ব্যবস্থা গড়তে চাই, তাহলে নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার তার অন্যতম পরীক্ষা। চাকরি পাওয়ার জন্য একজন তরুণের সবচেয়ে বড় পরিচয় হোক তার মেধা ও যোগ্যতা। তার বাবার রাজনৈতিক পরিচয় নয়। তার এলাকার প্রভাবশালী নেতা নয়। কোনো সুপারিশের ফোনও নয়। একজন চাকরিপ্রার্থী যেন নিশ্চিন্তে বলতে পারেন – আমি কারও লোক নই। আমি পরীক্ষায় ভালো করেছি। চাকরিটা তাই আমার প্রাপ্য।’