ফের পতনে শেয়ারবাজার প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬ টানা চার কার্যদিবস পতনের পর বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার দেখা মিলে। তবে, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফের দরপতন হয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এতে ডিএসইতে কমেছে সবকটি মূল্য সূচক। তবে, সিএসইতে সূচক বেড়েছে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে, লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হওয়ার পরেই বদলে যায় বাজারের চিত্র। দাম বাড়ার তালিকা থেকে একের পর এক প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় নাম লেখাতে থাকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। এতে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্য সূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে ৮৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৫৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৩২টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪১টির দাম কমেছে এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪৯টির দাম কমেছে এবং ৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৩টির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫২টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া ১টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ২ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক কমলেও পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৭২৩ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬৯৯ কোটি ১১ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২৪ কোটি টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ৫০ কোটি ৯৯ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার। ২৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, সায়হাম কটন, ইভিন্স টেক্সটাইল, এনভয় টেক্সটাইল এবং আর্গন ডেনিমস। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৮৪টির দাম কমেছে এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এরপরও সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ১৭ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৬ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। Download PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: ফের পতনে শেয়ারবাজার