বিশ্বজুড়ে ব্যবসায় বাড়ছে ডিজিটাল মুদ্রার ব্যবহার

প্রকাশিত: ১১:৪৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

বিশ্বের বড় বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দ্রুত বাড়ছে টোকেনভিত্তিক ডিজিটাল অর্থের ব্যবহার। নগদ অর্থের ব্যবস্থাপনা সহজ করা, আন্তর্জাতিক লেনদেন দ্রুত সম্পন্ন করা এবং নতুন বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের অর্থ ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ৮৮ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে টোকেনভিত্তিক অর্থের ব্যবহার শুরু হয়েছে অথবা পরীক্ষামূলকভাবে চালু রয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যাংক ডিবিএসের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ডিবিএসের বৈশ্বিক লেনদেন সেবা বিভাগের প্রধান লিম সুন চং বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে টোকেনভিত্তিক অর্থের ব্যবহার প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত বাড়ছে।

গত জুন ও জুলাই মাসে ১১টি বাজারের ৪২২ জন ব্যবসা ও আর্থিক খাতের শীর্ষ কর্মকর্তার ওপর জরিপটি পরিচালনা করা হয়। অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রত্যেকটির বার্ষিক আয় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি।

জরিপে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, চীন ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।

জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁদের প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে বড় পরিসরে টোকেনভিত্তিক অর্থের ব্যবহার চালু হয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট কিছু বাজার বা কার্যক্রমে এ প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে।

সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে স্টেবলকয়েন

জরিপ অনুযায়ী, টোকেনভিত্তিক অর্থের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় স্টেবলকয়েন বা স্থিতিশীল ডিজিটাল মুদ্রা। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ৬৩ শতাংশ এটি ব্যবহার করছে।

এ ছাড়া ৫৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান টোকেনভিত্তিক আমানত এবং ৫২ শতাংশ প্রতিষ্ঠান টোকেনভিত্তিক অর্থবাজার তহবিল ব্যবহার করছে।

স্টেবলকয়েন হলো এমন এক ধরনের ডিজিটাল মুদ্রা, যার মূল্য সাধারণত মার্কিন ডলার বা অন্য কোনো প্রচলিত মুদ্রার সঙ্গে সংযুক্ত রাখা হয়। অন্যদিকে টোকেনভিত্তিক আমানত হচ্ছে ব্যাংকে জমা থাকা অর্থের ডিজিটাল প্রতিনিধিত্ব, যা টোকেনের মাধ্যমে লেনদেন করা যায়।

লিম সুন চং জানান, ডিবিএসের বিশ্লেষণে স্টেবলকয়েন ব্যবহারের বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া গেছে। এটি শুধু ব্যাংকের মাধ্যমে নয়, বিভিন্ন আর্থিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেও ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি এ ধরনের মুদ্রা ব্যবহারের অনুমোদনপ্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

ব্যবসা সম্প্রসারণে এগিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া

জরিপে দেখা গেছে, নতুন বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় অঞ্চল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া।

এরপর রয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাজ্যের জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে তাঁরা বাণিজ্যিক লেনদেনের অর্থ পরিশোধে চীনের মুদ্রা রেনমিনবি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছেন।

আন্তর্জাতিক লেনদেনে বাড়তে পারে রেনমিনবির ব্যবহার

ডিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে চীনের মুদ্রা রেনমিনবির মূল্য বেড়েছে। ফলে চীনা রপ্তানিকারকদের কাছে এ মুদ্রায় লেনদেন আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

রেনমিনবিতে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে চীনা রপ্তানিকারকেরা ক্রমেই আরও সুবিধাজনক বাণিজ্যিক শর্ত দিচ্ছেন বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।

লিম সুন চং বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেনে রেনমিনবির ব্যবহার বাড়াতে কাজ করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক লেনদেনে এ মুদ্রার ব্যবহার আরও বাড়তে পারে বলে মনে করেন তিনি।