পশ্চিমবঙ্গে চলছে ভোট গণনা, শুরুতেই এগিয়ে বিজেপি

প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোট গণনা শুরু হয়। পোস্টাল ব্যালট গণনার শুরুতে দুই কেন্দ্রেই এগিয়ে যান বিজেপির প্রার্থীরা।

রেজিনগরে বিজেপির প্রার্থী শাখারভ সরকার এবং নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হাসিরানি রথ এগিয়ে যান।

নন্দীগ্রামে বড় ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি

ভোট গণনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের ব্যবধান বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তিনি প্রায় ১৯ হাজার ২৯১ ভোটে এগিয়ে যান। এই কেন্দ্রে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাতীয় কংগ্রেস এবং তৃতীয় স্থানে সিপিআই।

নন্দীগ্রামে মমতা ব্যানার্জিপন্থি তৃণমূল কংগ্রেস কোনো প্রার্থী দেয়নি। তারা জাতীয় কংগ্রেসকে সমর্থন জানিয়েছে।

রেজিনগরে এগিয়ে বিজেপির শাখারভ সরকার

রেজিনগরে দ্বিতীয় রাউন্ডের গণনার শুরুতে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার ২০ হাজার ৪১৫ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।

এই কেন্দ্রে আমজনতা উন্নয়ন পার্টি ৩ হাজার ৮৬৫ ভোট পেয়েছে। কংগ্রেস পেয়েছে ১ হাজার ২৯২ ভোট। মমতাপন্থি তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৭৪৬ ভোট। সিপিএম পেয়েছে ৫৪১ ভোট এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ২৯৫ ভোট।

গণনা কেন্দ্রে এজেন্ট না থাকার অভিযোগ

রেজিনগরে ভোট গণনা শুরুর সময় কয়েকটি বিরোধী দলের এজেন্টকে গণনা কেন্দ্রে দেখা যায়নি। আমজনতা উন্নয়ন পার্টির কোনো এজেন্টও সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থি তৃণমূল কংগ্রেসের এজেন্টদের গণনা কেন্দ্রে দেখা গেছে।

জালভোটের অভিযোগ কংগ্রেসের

রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার বিভিন্ন বুথে গিয়ে জালভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। দলটির আরও অভিযোগ, নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে ব্যাপক কারচুপি, জাল ভোট, ভোটারদের পরিচয়পত্র কেড়ে নেওয়া এবং অন্যের হয়ে জোর করে ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

ভোট গণনা স্থগিত রাখার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস। তবে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকার তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রেজিনগরে জাল ভোটের অভিযোগ প্রসঙ্গে শাখারভ সরকার বলেন, বিজেপি অনেক বুথে শূন্য ভোট পেয়েছে। এ বিষয়ে বিরোধীরা কী বলবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

তার দাবি, ভোটের ফল জনগণের রায়। রেজিনগরের সংখ্যালঘু মানুষেরা সরকারের সঙ্গে থাকার কথা বলছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কড়া নিরাপত্তায় ভোট গণনা

নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্রের গণনা কেন্দ্রেই কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশও মোতায়েন রয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ শচীন মাক্কার বলেন, তিনি নিজে উপস্থিত থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।