ইরানের নথি ফাঁস: নিকাকে ধর্ষণ ও হত্যা করে আইআরজিসি’র ৩ সদস্য প্রকাশিত: ৩:১৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৩০, ২০২৪ ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্যের বিরুদ্ধে একজন তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। বাহিনীর ফাঁস হওয়া নথিতে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২০২২ সালে দেশটির সরকার বিরোধী বিক্ষোভ থেকে ১৬ বছরের নিকা শাকারামি উধাও হয়ে যান। এর ৯ দিন পর তার মরদেহ খুঁজে পাওয়া যায়। তখন ইরানের সরকার দাবি করেছিল, নিকা আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু সম্প্রতি বাহিনীটির গোপন নথি ফাঁস হলে এই চাঞ্জল্যকর তথ্য প্রকাশ পায়। খবর বিবিসি। তবে এই ফাঁস হওয়া নথির বিষয়ে জানতে ইরানের সরকার ও বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বিবিসি। মঙ্গলবার (৩০ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, ‘অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে’ নিকার মামলার শুনানির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেয় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এতে তার খুনিদের ও সিনিয়র কমান্ডারদের নাম রয়েছে, যারা ঘটনার সত্যকে আড়াল করার চেষ্টা করেছিলেন। ওই প্রতিবেদনে একটি কভার্ডভ্যানের পেছনে সংগঠিত ঘটনার নির্মম বিবরণ রয়েছে, যেখানে নিরাপত্তা বাহিনী নিকাকে আটকে রেখেছিল। সেখানে একজন পুরুষ নিকার উপর বসে থাকার সময় তার শ্লীলতাহানি করে, আটক ও হাতকড়া পরা থাকা সত্ত্বে তিনি নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন এবং তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরান সরকারের অসংখ্য জাল নথি রয়েছে। তাই কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন সূত্র থেকে এই প্রতিবেদনের তথ্য যাচাই-বাছাই করে খবরটি প্রকাশ করেছে বিবিসি। এই নথির কাগজপত্রে ভুক্তভোগী তরুণীর শেষ গতিবিধির বর্ণনা থাকার ইঙ্গিত দেয়। নিকা শাকারামির নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা ইরানসহ সারাবিশ্বে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। তার ছবি ইরানের সবচেয়ে বড় নারী স্বাধীনতার আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। ২০২২ সালে বাধ্যতামূলক পর্দার বিরোধীতায় ইরান জুড়ে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে। সেই আন্দোলনে নিকা নাম ধরে স্লোগান দিতেন বিক্ষোভকারীরা। এর কয়েকদিন আগে পুলিশে হেফাজতে মাহসা আমিনী নামের ২২ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যুতে ইরান জুড়ে নারীর, জীবন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। ঠিকমতো হিজাব না পরার অভিযোগ তাকে আটক করেছিল দেশটির পুলিশ। জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের তথ্যমতে, পুলিশ হেফাজতে থাকার সময় পাওয়া আঘাতে মারা যান মাহসা। সেই আন্দোলন থেকে নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহেরও বেশি সময় পর নিকার মৃতদেহ খুঁজে পায় তার পরিবার। প্রথমে ইরানের কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুর বিষয়টি বিক্ষোভের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে দাবি করেছিল। কিন্তু তদন্তের পর জানায়, নিকা আত্মহত্যা করেছিল। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগে সর্বশেষ ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তেহরানের লালেহ পার্কের কাছে নিকাকে দেখা গিয়েছিল। সেখানে ডাস্টবিনে হিজাবে আগুন দেওয়ার সময় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এ সময় তার আশেপাশে থাকা বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ‘স্বৈরশাসক’ বিরোধী স্লোগান দিয়েছিল। Download PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: ইরানতরুণীনথিত