মেয়েদের দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট বাড়াতে তিন দলের চ্যালেঞ্জ কাপ

প্রকাশিত: ৩:৪১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৪, ২০২৬

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের ঘরোয়া কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে বিসিনি। নিয়মিত ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি সেরা ৪৫ ক্রিকেটারকে নিয়ে তিনটি দল গঠন করে চ্যালেঞ্জ কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

নারী এশিয়া কাপের ফটোসেশান শেষে সংবাদ সম্মেলনে আসেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ও বিসিবির নারী ক্রিকেটের প্রধান রফিকুল ইসলাম বাবু।

ঘরোয়া ক্রিকেটের আলাদা ফিক্সচার নিয়ে রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্যালেন্ডার অনুযায়ী যে খেলাগুলি আছে সেটা তো আছেই, তার বাইরে আমরা সেরা ৪৫ জনকে নিয়ে তিনটা টিম করব এবং ওই তিনটা টিমের ভেতরে একটা চ্যালেঞ্জ কাপ হবে। এটা করার ফলে আমাদের অনেক ক্রিকেটার ভালো খেলার সুযোগ পায় না, তারা এখন নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পাবে। আমরা চাই আরও বেশি বেশি ক্রিকেট হোক ঘরোয়া লিগে বা এরকম টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। সেক্ষেত্রে তারা আরও অভিজ্ঞ হবে এবং ন্যাশনাল টিমে আসার জন্য অনেক খেলোয়াড় সৃষ্টি হবে। পাইপলাইনে অনেক খেলোয়াড় থাকবে, সেই লক্ষ্যেই আমরা এটা করছি।’

নারীদের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানালেন রফিকুল ইসলাম বাবু, ‘এখন পর্যন্ত ওটা আলোচনা হয়নি। বিপিএলের কথা আপনি বলছেন। বিপিএল এর গভর্নিং কাউন্সিল আছে, তারা সিদ্ধান্ত নিবে যে এটা করবে কি না। তবে যদি তারা সিদ্ধান্ত নেয় যে করবে, তাহলে আমাদের মেয়েরা রেডি আছে। ইনশাআল্লাহ খেলবে।’

নারী ক্রিকেটের দীর্ঘ সংস্করণের ক্রিকেট নিয়েও কাজ করার কথা জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম বাবু। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটে নামার আগে তিন বা চার দিনের ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমরা এটা নিয়েও কথা বলেছি যে আমাদের কীভাবে লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটে মেয়েদের আরও অভিজ্ঞ করা যায়। আমরা ক্যালেন্ডার দেখে বের করব যে কোনো সময় লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেট খেলা যায়। লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটে যদি না খেলতে পারে, তিন দিন চার দিনের ম্যাচ যদি আমরা করি, সে ক্ষেত্রে তারা যদি চার দিন খেলতে পারে এটার অভিজ্ঞতা অবশ্যই দরকার আছে।’

‘টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ম্যাচ থেকে একেবারে আলাদা হলো টেস্ট ম্যাচ। টেস্ট ম্যাচে অভিজ্ঞতা অর্জন করার জন্য প্রচুর খেলতে হবে এবং সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। ওদের আশাটা ইনশাআল্লাহ পূর্ণ করব। লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটে তাদেরকে খেলিয়ে তারা যাতে অভ্যস্ত হয় এবং টেস্টে যেহেতু পাঁচ দিন চার দিন খেলতে হবে তাদের, সেই অভিজ্ঞতাটা অর্জন করেই তারা যাতে খেলে সেটার ব্যাপারেও আমরা ব্যবস্থা নিব।’

এদিকে নারী দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও সামনে এশিয়া কাপ-এশিয়ান গেমসের লক্ষ্য নিয়েও বোর্ডের পক্ষ থেকে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবালও নারী দলের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন বলে জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম বাবু।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন ছেলেদের ক্রিকেটে যে ধরনের খেলা হয়, সেই অনুযায়ী আমাদের মেয়েদেরও প্রচুর খেলা আছে। সেগুলো নিয়ে আমাদের মেয়েরা আরও ভালো কীভাবে খেলবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে আমাদের সামান্য গ্যাপ আছে বড় বড় টিমগুলির সাথে। আপনারা দেখেছেন ওয়ার্ল্ড কাপে সাউথ আফ্রিকা, ইন্ডিয়ার সাথে কত সুন্দর খেলেছে, সামান্য ভুলের জন্য হেরেছি আমরা। ওগুলো শুধরানোর জন্য তামিম অনেক সিরিয়াসলি চেষ্টা করছে এবং আমাকে বলছে যে আরও কী করলে ভালো হয়।’

‘ওটার ব্যাপারেই আলোচনা করেছি। আমাদের মেয়েদের সামান্য একটু গ্যাপ আছে। ওটা পূরণ করতে পারলে আমরা যেকোনো দেশকে হারানোর সক্ষমতা রাখব। অস্ট্রেলিয়া এখন অনেক উপরে, বাট অন্যান্য দেশগুলোকে হারানোর সক্ষমতা আমাদের মেয়েরা অচিরেই রাখবে ইনশাআল্লাহ।’