পতনের ধারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত শেয়ারবাজারে প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ টানা দরপতনের ধারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর আভাস দিচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। আগের কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। ফলে উভয় বাজারেই মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। এর আগে টানা দরপতনের কারণে সোমবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স সাড়ে তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার শেয়ারবাজারে বড় ধরনের উত্থান দেখা দেয়। ওই দিন ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এ উত্থানের ধারাবাহিকতায় বুধবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। ফলে লেনদেনের শুরু থেকেই সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। দিনভর এ প্রবণতা অব্যাহত থাকায় লেনদেনের শেষেও দাম বাড়ার তালিকা বড় থাকে এবং মূল্যসূচক ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ১৮০টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৫৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৬২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৯৫টির দাম কমেছে এবং ২০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩২টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৬টির দাম কমেছে এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৯টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ২টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২৩টির দাম কমেছে এবং ৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ২১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৫ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৯২ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৯৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে। মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৫৫৬ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫০৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৭ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইস্টার্ন ব্যাংকের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৯২ লাখ টাকার। ১৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এনভয় টেক্সটাইল। এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- সায়হাম টেক্সটাইল, মালেক স্পিনিং, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম কটন, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সামিট অ্যালায়েন্স পোর্ট এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স। অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯৪টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৫৮টির দাম কমেছে এবং ২৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৭৪ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। Download PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: পতনের ধারা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত শেয়ারবাজারে