দেশে দেশে কঠোর ভিসানীতি, বিদেশে পড়ার স্বপ্নে নতুন বাধা শিক্ষার্থীদের প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছেন এমন শিক্ষার্থীদের জন্য বদলে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় কয়েকটি শিক্ষাগন্তব্যের অভিবাসন ও ভিসা ব্যবস্থা। অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য এই তিন দেশেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অভিবাসন ব্যবস্থায় নতুন বিধিনিষেধ আনা হচ্ছে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের এখন শুধু বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স বেছে নিলেই হচ্ছে না, ভিসার শর্ত, অর্থের জোগান, পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি থাকার নিয়মও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ায় শিক্ষার্থীদের পরিবারের ওপর বিধিনিষেধ অস্ট্রেলিয়া অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নতুন পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক ১৭ সেপ্টেম্বর নতুন নীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সরকারের লক্ষ্য, নেট ওভারসিজ মাইগ্রেশন চলতি অর্থবছরে ২ লাখ ৪৫ হাজার এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মার্চ পর্যন্ত এক বছরে এই সংখ্যা কমে ২ লাখ ৯২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় অধিকাংশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে যেতে পারবেন না। তবে এরই মধ্যে যারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দেশটিতে রয়েছেন, তাদের পরিবার ভেঙে দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও আসিয়ানভুক্ত কিছু দেশের শিক্ষার্থী এবং পিএইচডির মতো নির্দিষ্ট কোর্সে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। এ ছাড়া এক ভিসা থেকে অন্য ভিসায় যাওয়ার প্রবণতা বা ‘ভিসা হপিং’ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে এসব পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রেও শিক্ষার্থী ভিসায় কড়াকড়ি যুক্তরাষ্ট্রেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, এফ-১ ও জে-১ ভিসাধারীদের আগের মতো অনির্দিষ্ট ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’-এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য থাকার অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এফ-১ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সাধারণত সর্বোচ্চ চার বছরের সময়সীমা প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স শেষ করতে না পারলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য আবেদন করতে হবে। আরও পড়ুন অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের পরিবার নেওয়ার দরজা বন্ধ হচ্ছে বর্তমান ব্যবস্থায় এফ-১ শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত মেনে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারলে কোর্সের মেয়াদ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। নতুন প্রস্তাবের উদ্দেশ্য হিসেবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ নিয়মিত যাচাই ও তদারকির সুযোগ বাড়ানোর কথা বলেছে। ফলে বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, পিএইচডি বা অন্য উচ্চশিক্ষা কর্মসূচিতে থাকা শিক্ষার্থীদের সময়সীমা নিয়ে আগেভাগেই পরিকল্পনা করতে হতে পারে। বিজ্ঞাপন যুক্তরাজ্যে কমছে পড়াশোনা শেষে কাজের সময় যুক্তরাজ্যেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভিসায় পড়াশোনা শেষ করার পর থাকার সময় দুই বছর থেকে কমে ১৮ মাস হবে। তবে পিএইচডি বা অন্যান্য ডক্টরাল ডিগ্রিধারীদের জন্য তিন বছরের সময়সীমা বহাল থাকবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করলে সাধারণ গ্র্যাজুয়েট ভিসায় দুই বছর থাকার সুযোগ রয়েছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি বা তার পরে আবেদন করলে সময় হবে ১৮ মাস। বিজ্ঞাপন এর অর্থ হলো, পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরি খোঁজা, দক্ষ কর্মসংস্থানে প্রবেশ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মভিসায় যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাতে আগের তুলনায় কম সময় থাকবে। বাড়ছে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত যুক্তরাজ্যে শিক্ষার্থী ভিসার জন্য জীবনযাত্রার খরচ বহনের সক্ষমতার শর্তও নির্ধারিত হয়েছে। বর্তমানে লন্ডনে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়লে ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড পর্যন্ত অর্থের সক্ষমতা দেখাতে হয়। বিজ্ঞাপন তবে যুক্তরাজ্যের ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর সর্বশেষ অভিবাসন বিধিতে এই পরিমাণ আরও বাড়িয়ে লন্ডনের জন্য ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড করার কথা বলা হয়েছে। শিক্ষার্থী ভিসার আবেদন ফিও বর্তমানে ৫৫৮ পাউন্ড। বিজ্ঞাপন বদলে যাচ্ছে বিদেশে পড়াশোনার হিসাব তিন দেশের নীতিতে পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট যে বিদেশি শিক্ষার্থী ও অভিবাসন ব্যবস্থায় সরকারি নজরদারি বাড়ছে। ফলে বিদেশে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য শুধু ভালো বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়াই যথেষ্ট নয়। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় কোন দেশে পড়লে মোট খরচ কত হবে, পড়াশোনা শেষে কতদিন কাজের সুযোগ থাকবে, কোন ধরনের দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, ভিসার শর্ত কী এবং দীর্ঘমেয়াদে অন্য ভিসায় যাওয়ার সুযোগ কতটা এসব বিষয়ও এখন সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি কোর্স, গবেষণা বা পিএইচডিতে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার সময়সীমা ও বাড়তি অনুমতির নিয়মগুলো আগে থেকেই ভালোভাবে জানা জরুরি। আরও পড়ুন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সাক্ষাৎকার বন্ধ থাকায় বিপাকে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ফলে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ এখনও রয়েছে, কিন্তু আগের তুলনায় ভিসা ও অভিবাসন নীতির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিকল্পনাকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে মিলিয়ে নিতে হবে। পরিবর্তিত নিয়মে প্রস্তুতি, আর্থিক সক্ষমতা এবং স্পষ্ট ক্যারিয়ার পরিকল্পনাই বিদেশে পড়াশোনার সিদ্ধান্তে ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, এনডিটিভি Download PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: দেশে দেশে কঠোর ভিসানীতিবিদেশে পড়ার স্বপ্নে নতুন বাধা শিক্ষার্থীদের