‘ভোট চুরি’ নিয়ে ফের সরব রাহুল গান্ধী, রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর সাম্প্রতিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর নতুন করে ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, ক্ষমতাসীন বিজেপি, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ভোটে অনিয়ম করেছে। এমন কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ভোট চুরি ভারতীয় জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং সংবিধানের ওপর সরাসরি আঘাত। তার দাবি, বিজেপি, আরএসএস ও নির্বাচন কমিশন এ কাজে জড়িত থাকলে তা রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।

রাহুলের এই মন্তব্যের পেছনে রয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের তিন সদস্যের মধ্যেই একাধিকবার আপত্তি উঠেছিল। নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার কমিশনের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপের বিষয়ে লিখিত আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন ভোটার যুক্ত করা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার-সংক্রান্ত তথ্যের ব্যবস্থাপনা আরও কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানিয়েছিলেন। তারা কিছু পদক্ষেপকে ‘অননুমোদিত’ ও ‘অবৈধ’ বলেও উল্লেখ করেন।

এ নিয়ে কংগ্রেসও নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। দলটির দাবি, তিনি নিজের ইচ্ছামতো কমিশন পরিচালনা করছেন। কংগ্রেসের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তবে এগুলো কংগ্রেসের রাজনৈতিক অভিযোগ; নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি এর আগে রাহুল গান্ধীর ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ খারিজ করেছে।

‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে রাহুল গান্ধী গত কয়েক বছর ধরেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছেন। ভোটার তালিকায় অনিয়ম, নাম বাদ দেওয়া এবং ভোটার যুক্ত করার ক্ষেত্রে অসঙ্গতির অভিযোগও তিনি একাধিকবার করেছেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য তার আগের বেশ কিছু অভিযোগকে ‘ভুল ও ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন রাহুল। ওই ঘটনায় তিনি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর ক্ষতি করার অভিযোগ তুলেছিলেন।

এদিকে ওয়েনাড়ের কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য, নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠু না হয়, তাহলে গণতন্ত্রের ভিত্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনের কেউ অনিয়ম সম্পর্কে জানার পরও তা হতে দিলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর।

কংগ্রেস এখন ‘ভোট চুরি’ ইস্যুকে আরও জোরালোভাবে সামনে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি কাগজ ফাঁসের মতো ঘটনায় শিক্ষার্থী ও তরুণদের সমর্থন আদায়ের জন্য রাহুলের ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ প্রচারাভিযানকেও সামনে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।