কারিগরি শিক্ষায় গ্র্যাজুয়েটরাই ভবিষ্যৎ শিল্পের চালিকাশক্তি

প্রকাশিত: ১০:২৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভিইটি) গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের শুধু কারিগরি দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির দিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমাদ জাহিদ হামিদি।

তিনি বলেছেন, টিভিইটি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি এআই, ডেটা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ এবং নৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। একই সঙ্গে নিজেদের ব্যবসা গড়ে তোলা এবং অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পথও তাদের সামনে উন্মুক্ত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ইউনিভার্সিটি পেন্ডিডিকান সুলতান ইদ্রিসে সেন্ট্রাল জোন পলিটেকনিক ও কমিউনিটি কলেজের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আহমাদ জাহিদ বলেন, টিভিইটি শিক্ষার্থীদের আরও এগিয়ে নিতে তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, এআই, ডেটা ও ডিজিটাল প্রযুক্তিতে দক্ষতাকে শিক্ষার্থীদের মৌলিক সক্ষমতায় পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রযুক্তির দক্ষ ব্যবহারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ এবং নৈতিক বিচার-বিবেচনার সক্ষমতাও থাকতে হবে। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তারা যেন দায়িত্বশীল ও শিষ্টাচারসম্পন্ন থাকে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে পলিটেকনিক ও কমিউনিটি কলেজ শিক্ষা বিভাগকে (পলিকেসি) শিল্প খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্রয়োগভিত্তিক উদ্ভাবন আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।

আহমাদ জাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলো বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করতে হবে। এরপর সেগুলো উন্নত করে বাজারজাত করার উপযোগী করে তুলতে হবে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের তৈরি একটি স্মার্ট সেচব্যবস্থা কৃষকদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে পানির অপচয় কমানোর পাশাপাশি কৃষকদের কাজও সহজ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, উদ্ভাবনী প্রকল্পকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্প খাতকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং বাণিজ্যিকীকরণের পথ তৈরি করতে হবে।

তৃতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে টিভিইটি গ্র্যাজুয়েটদের নিজস্ব ব্যবসা গড়ে তোলার জন্য আরও সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন আহমাদ জাহিদ, যিনি একই সঙ্গে গ্রামীণ ও আঞ্চলিক উন্নয়নমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে তিনি আমপাং কমিউনিটি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী নূর আজরি আইমানের উদাহরণ তুলে ধরেন। মোবাইল ফোন মেরামতের খাতে তিনি ‘এএসজেডআর লিগেসি’ নামে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠা করেন। কারিগরি দক্ষতা ও উদ্যোক্তা-সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা কাজে লাগিয়ে তিনি ব্যবসা সম্প্রসারণ করে আরও দুটি শাখা চালু করেন এবং স্থানীয় তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন।

আহমাদ জাহিদ বলেন, এ ধরনের উদাহরণ প্রমাণ করে টিভিইটি শিক্ষার্থীদের শুধু দক্ষকর্মী হিসেবে তৈরি না করে ব্যবসা গড়ে তোলা এবং অন্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সক্ষমতাও তৈরি করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘মেড ইন মালয়েশিয়া’ নিয়ে আমরা গর্বিত। তবে এখন আমাদের আরও এক ধাপ এগিয়ে ‘মেড বাই মালয়েশিয়ানস’ অর্থাৎ মালয়েশীয়দের তৈরি পণ্য ও উদ্ভাবনের দিকে এগোতে হবে।

পলিটেকনিক ও কমিউনিটি কলেজগুলোর সঙ্গে শিল্প খাতের ২৩ হাজার ৫৮০ অংশীদার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিশাল নেটওয়ার্ককে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, শিল্প প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে আরও গভীরভাবে কাজে লাগাতে হবে।

শিল্প খাতকে শুরু থেকেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে তাদের কী ধরনের দক্ষ জনবল প্রয়োজন, তা নির্ধারণে শিল্প খাতের অংশগ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ প্রযুক্তি ও কর্মক্ষেত্রের আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ দিতে হবে।

প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সক্ষমতা ও বিশেষত্বের ভিত্তিতে দক্ষতা উন্নয়নের ওপরও গুরুত্ব দেন আহমাদ জাহিদ। তিনি সুলতান নাজরিন শাহ মেরিটাইম পলিটেকনিকের উদাহরণ দিয়ে বলেন, এটিকে একটি কৌশলগত সামুদ্রিক টিভিইটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। শিল্প খাতের চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেখানে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

এছাড়া গত ৫ সেপ্টেম্বর চীনের লিউঝৌ রেলওয়ে ভোকেশনাল টেকনিক্যাল কলেজে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ৫৫ জন পলিটেকনিক শিক্ষার্থীর সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আহমাদ জাহিদ বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার সুযোগ পলিটেকনিক ও কমিউনিটি কলেজের আরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশ ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে।