জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী দেশ’ বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশিত: ১১:০৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত সরকার ‘সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন’ দিচ্ছে- এমন অভিযোগ তুলে প্রশ্ন করা এক পাকিস্তানি সাংবাদিককে চরম ভাষায় জবাব দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই সাংবাদিক জয়শঙ্করকে প্রশ্ন করেন, ভারত সরকার ঠিক কবে নাগাদ ‘পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে ইন্ধন দেওয়া বন্ধ করবে’। এর উত্তরে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, একটি সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে? এই বাক্যটি বলার পরপরই জয়শঙ্কর ও ভারতীয় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা নিজ নিজ আসন ছেড়ে কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। তবে তারা কক্ষ ত্যাগ করার সময়ও ওই সাংবাদিক তার বক্তব্য ও মন্তব্য প্রদান অব্যাহত রাখেন। ভারত দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে, পাকিস্তানের মাটি ও সে দেশের একাধিক গোষ্ঠী বহু বছর ধরে ভারতে সংঘটিত বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার সাথে সরাসরি জড়িত। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন শহর পেহেলগামে এক প্রাণঘাতী সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। উক্ত হামলায় এক নেপালি নাগরিকসহ মোট ২৬ জন নিহত হন ও বহু মানুষ আহত হন। ওই ঘটনার জবাবে ভারত পরবর্তী সময়ে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের একাধিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। ভারতের সেই হামলার নিশানায় ছিল মুজাফফরাবাদ, কোটলি, বাহাওয়ালপুর, রাওয়ালাকোট, চকসওয়ারি, ভিম্বার, নিলম ভ্যালি, ঝিলম ও চকওয়াল অঞ্চল। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, যে অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো হয়েছিল, সেগুলো লস্কর-ই-তৈয়বা ও জৈশ-ই-মোহাম্মদ -এর মতো নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিল। চিহ্নিত ৯টি এলাকার মধ্যে ৫টি ছিল পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ও বাকি ৪টি ছিল মূল পাকিস্তানের অভ্যন্তরে। এর মধ্যে বাহাওয়ালপুরকে দীর্ঘদিন ধরেই জৈশ-ই-মোহাম্মদের প্রধান ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অন্যদিকে, মুজাফফরাবাদ ও ভিম্বার এলাকা দুটিকে জম্মু ও কাশ্মীরে অনুপ্রবেশের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। জাতিসংঘে ভারতের তীব্র আক্রমণ অন্যদিকে, জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বক্তৃতা দেওয়ার সময় ভারতীয় কূটনীতিক ক্ষিতিজ ত্যাগী পাকিস্তানকে তীব্র সমালোচনা করে বলেন, অন্য দেশের ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা বা সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি না করে পাকিস্তানের উচিত তাদের নিজেদের ভঙ্গুর অর্থনীতির দিকে মনোযোগ দেওয়া। ক্ষিতিজ ত্যাগী বলেন, অন্যের ভূখণ্ড দখল বা সন্ত্রাসবাদ রপ্তানি না করে নিজেদের দেশের উন্নয়নে মনোযোগ দিলেই পাকিস্তানের জনগণের বেশি উপকার হবে। কারণ এসব কর্মকাণ্ড কিংবা এই পরিষদে কোনো নাটকিয়তা চালিয়ে তাদের অর্থনৈতিক ঋণ পরিশোধ করা যাবে না, যার ওপর ভিত্তি করে তাদের অর্থনীতি টিকে আছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গত জুন মাস থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভ ও সুনির্দিষ্ট বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে ইসলামাবাদ। উক্ত বিক্ষোভের সময় সেখানে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন যে ইসলামাবাদ ইচ্ছাকৃতভাবে জরুরি ত্রাণ সরবরাহ আটকে রেখেছে। ভারতীয় প্রতিনিধি আরও বলেন, এই পরিষদকে জানানো হয়েছিল যে পাকিস্তান-দখলকৃত ভূখণ্ডে জুনের পর থেকে বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং খাদ্য ও ওষুধ আটকে রাখা হয়েছে। যখন এসব তথ্য সামনে আনা হয়, তখন পাকিস্তানের একমাত্র উত্তর ছিল একটি ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’ তোলা। এই কক্ষে যদি এমন কোনো প্রতিনিধিদল থাকে যা কাউন্সিলের সুনির্দিষ্ট পর্যালোচনার সব মানদণ্ড পূরণ করে, তবে সেটি হলো পাকিস্তান। Download PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: জাতিসংঘে পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসী দেশ’ বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী