সচিব সেজে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার ৩ প্রকাশিত: ৩:৫১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬ জমি কেনাবেচায় লাভের টোপ, অভিজাত বাসায় কথিত সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ আর ভুয়া বায়নাপত্রের ফাঁদ। এভাবেই রাজধানীর দারুস সালামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে ‘সচিব পরিচয়ে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাৎ’ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান। গ্রেপ্তাররা হলেন– কথিত সচিব মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান (৪৮), কথিত জমির মালিক সুমন আহমেদ ওরফে জাহাঙ্গীর আলম (৩৯) এবং জমির দালাল মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ওরফে সাইফুল (৫২)। এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দারুস সালাম এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন (৪৯) জমির শেয়ার বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেন। বিজ্ঞাপন দেখে সাইফুল ওরফে শাহীন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে একজন সচিবের হয়ে জমি কেনার জন্য যোগাযোগকারী হিসেবে পরিচয় দেন। পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে কথিত ওই সচিবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর তাকে ধানমন্ডির একটি অভিজাত বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে আধুনিক গাড়িতে আসা এক ব্যক্তিকে সচিব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি ফারুক হোসেনকে জানান, তিনি নিজে সরাসরি জমি কিনতে পারবেন না। তাই তার মাধ্যমে জমি কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারকরা সাভারের বিলামালিয়া মৌজায় ৫৮ শতাংশ জমি কেনার কথা বলে ফারুক হোসেনকে প্রলোভন দেখান। জমিটির মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বলে জানানো হয়। কথিত সচিবের জন্য জমিটি কিনে দিলে পরে তা বিক্রি করে এক কোটি টাকা লাভ হবে বলেও তাকে বলা হয়। বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকরা ফারুক হোসেনের সামনেই কথিত জমির মালিককে নগদ এক লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার অভিনয় করেন। এরপর জমি কেনার জন্য ১০ লাখ টাকা বায়না দাবি করা হয়। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে ব্যাংক ও বাসা থেকে টাকা সংগ্রহ করে কথিত জমির মালিককে ১০ লাখ টাকা দেন ফারুক হোসেন। পরে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র করার কথা বলে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বায়নাপত্রের মূল কপি দেওয়ার কথা বলে ফের ২০ লাখ টাকা দাবি করা হলে তিনি সেই টাকাও দেন। এভাবে মোট ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার পর বায়নাপত্র না দিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে প্রতারকরা। এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ভুক্তভোগীকে বিশ্বাস করাতে চক্রটি বিভিন্ন সময় নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়। কখনো কথিত সচিবের অফিসে, আবার কখনো ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো। এমনকি কথিত জমির মালিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার গল্পও সাজানো হয়। ব্যবহার করা হয় ভুয়া স্ট্যাম্প ও ভুয়া আইনজীবীর প্রসঙ্গও। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ফারুক হোসেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রথমে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কথিত সচিব শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও দালাল সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা এবং ৩০ লাখ টাকা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্তে প্রতারণায় ব্যবহৃত ভুয়া বায়নাপত্রের স্ট্যাম্প, কথোপকথনের সিডিআর ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে জনস্বার্থে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের শনাক্ত করে। Download PhotoCard SHARES জাতীয় বিষয়: গ্রেপ্তার ৩সচিব সেজে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার ৩০ লাখ টাকা আত্মসাৎ
জমি কেনাবেচায় লাভের টোপ, অভিজাত বাসায় কথিত সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ আর ভুয়া বায়নাপত্রের ফাঁদ। এভাবেই রাজধানীর দারুস সালামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় চক্রটির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে ‘সচিব পরিচয়ে প্রতারণা ও টাকা আত্মসাৎ’ বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর)-এর অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।
গ্রেপ্তাররা হলেন– কথিত সচিব মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ওরফে খলিলুর রহমান ওরফে মিজানুর রহমান (৪৮), কথিত জমির মালিক সুমন আহমেদ ওরফে জাহাঙ্গীর আলম (৩৯) এবং জমির দালাল মো. জাহাঙ্গীর আলম শাহীন ওরফে সাইফুল (৫২)। এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, দারুস সালাম এলাকায় বসবাসকারী অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক হোসেন (৪৯) জমির শেয়ার বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দেন।
বিজ্ঞাপন দেখে সাইফুল ওরফে শাহীন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি নিজেকে একজন সচিবের হয়ে জমি কেনার জন্য যোগাযোগকারী হিসেবে পরিচয় দেন।
পরে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফারুক হোসেনকে কথিত ওই সচিবের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ৭ ডিসেম্বর তাকে ধানমন্ডির একটি অভিজাত বাসভবনে নেওয়া হয়। সেখানে আধুনিক গাড়িতে আসা এক ব্যক্তিকে সচিব হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তি ফারুক হোসেনকে জানান, তিনি নিজে সরাসরি জমি কিনতে পারবেন না। তাই তার মাধ্যমে জমি কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়। পিবিআই কর্মকর্তা বলেন, প্রতারকরা সাভারের বিলামালিয়া মৌজায় ৫৮ শতাংশ জমি কেনার কথা বলে ফারুক হোসেনকে প্রলোভন দেখান। জমিটির মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা বলে জানানো হয়। কথিত সচিবের জন্য জমিটি কিনে দিলে পরে তা বিক্রি করে এক কোটি টাকা লাভ হবে বলেও তাকে বলা হয়। বিশ্বাস অর্জনের জন্য প্রতারকরা ফারুক হোসেনের সামনেই কথিত জমির মালিককে নগদ এক লাখ টাকা অগ্রিম দেওয়ার অভিনয় করেন। এরপর জমি কেনার জন্য ১০ লাখ টাকা বায়না দাবি করা হয়। প্রতারকদের কথায় বিশ্বাস করে ব্যাংক ও বাসা থেকে টাকা সংগ্রহ করে কথিত জমির মালিককে ১০ লাখ টাকা দেন ফারুক হোসেন। পরে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বায়নাপত্র করার কথা বলে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। বায়নাপত্রের মূল কপি দেওয়ার কথা বলে ফের ২০ লাখ টাকা দাবি করা হলে তিনি সেই টাকাও দেন। এভাবে মোট ৩০ লাখ টাকা নেওয়ার পর বায়নাপত্র না দিয়ে নানা টালবাহানা শুরু করে প্রতারকরা। এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ভুক্তভোগীকে বিশ্বাস করাতে চক্রটি বিভিন্ন সময় নানা কৌশলের আশ্রয় নেয়। কখনো কথিত সচিবের অফিসে, আবার কখনো ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হতো। এমনকি কথিত জমির মালিক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার গল্পও সাজানো হয়। ব্যবহার করা হয় ভুয়া স্ট্যাম্প ও ভুয়া আইনজীবীর প্রসঙ্গও। পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে ফারুক হোসেন পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে অভিযোগ করেন। তদন্তে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর প্রথমে কথিত জমির মালিক জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কথিত সচিব শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও দালাল সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তার তিনজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সেখানে তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে প্রতারণা এবং ৩০ লাখ টাকা ভাগ করে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তদন্তে প্রতারণায় ব্যবহৃত ভুয়া বায়নাপত্রের স্ট্যাম্প, কথোপকথনের সিডিআর ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পিবিআই জানায়, এ ঘটনায় দারুস সালাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে জনস্বার্থে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) মামলাটি স্বউদ্যোগে তদন্ত শুরু করে এবং আসামিদের শনাক্ত করে।