ঢাবির ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মীদের অবাধ যাতায়াত, উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা প্রকাশিত: ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রী হলগুলোতে পুরুষ কর্মীদের অবাধ যাতায়াত নিয়ে গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার উদ্বেগ জানিয়েছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। ক্যান্টিন পরিচালনা, পরিচ্ছন্নতা, গেমস রুম খোলা ও পত্রিকা রাখাসহ বিভিন্ন কাজে পুরুষ কর্মীদের নিয়মিত উপস্থিতিতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে হল প্রশাসনের দাবি, কিছু কাজে পুরুষ কর্মীদের বিকল্প নেই। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ছাত্রী হলের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানে পুরুষ কর্মীদের যাতায়াতের সময় যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে প্রবেশের আগে দরজায় নক করা বা সতর্কতামূলক বাঁশি বাজানোর মতো নিয়মও মানা হয় না। এতে পোশাক পরিবর্তন, বিশ্রাম কিংবা ব্যক্তিগত কাজের সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। এছাড়া ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা। বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের শিক্ষার্থী মোছা. সিদ্দিকা জাহান শিফা গণমাধ্যমকে বলেন, নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন সকাল ৬টায় গেমস রুমের তালা খুলতে আসেন একজন পুরুষ কর্মী। ওই এলাকার পাশেই গণরুম, রিডিং রুম ও ওয়াশরুম থাকায় সেখান থেকে বের হওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। কর্মীটি যাতায়াতের সময় সতর্কতামূলক বাঁশিও বাজান না। নিরাপত্তার উদ্বেগ তুলে ধরে শিফা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘যে বারান্দা দিয়ে পুরুষ কর্মীরা হাঁটেন, সেখানেই মেয়েদের কাপড় শুকাতে দেওয়া হয়। তারা চাইলে যে কোনো সময় ডিজিটাল ডিভাইসে ভিডিও ধারণ করতে পারেন। এর চেয়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি আর কী হতে পারে?’ একই হলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন দুপুরে তিনি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। এ সময় অসুস্থ এক রুমমেটকে নিয়ে একজন পুরুষ কর্মী সরাসরি কক্ষে ঢুকে পড়েন। পরে ওই কর্মী তাকে জিজ্ঞেস করেন, কক্ষে আসবেন কি না। এছাড়া সকালে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উঠানে কাজ করার সময়ও শিক্ষার্থীদের অস্বস্তিতে পড়তে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। শুধু বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল নয়, কবি সুফিয়া কামাল ও শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থীরাও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের ভাষ্য, রিডিং রুম ও গণরুম এলাকায় যাতায়াতের সময় পুরুষ পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা অনেক ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক বাঁশি বাজান না কিংবা দরজায় নক করেন না। সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার সময় কোনো কোনো কর্মীর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও আপত্তি রয়েছে তাদের। হলের ফটকে দায়িত্ব পালনকারী কর্মীদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। শামসুন্নাহার হলের শিক্ষার্থী ইসরাক জাহান হল প্রশাসনের সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, হল প্রশাসন নিজে থেকে এসব দায় নিতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সিন্ডিকেট থেকে সব নারী কর্মী রাখার নিয়ম পাস হলে, আমরা নির্দেশ মানতে বাধ্য। তবে কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিই। বিজ্ঞাপন সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী গণমাধ্যমকে বলেন, নারী হলে কোনো পুরুষ কর্মীর অসদাচরণ পরিলক্ষিত হলে বা নিয়মের ব্যত্যয় ঘটলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এজন্য শিক্ষার্থীদের প্রক্টর বরাবর বা আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘নিজেদের মতো একটু চলাফেরা করার উপায় নেই, চারদিকে শুধু ছেলে মানুষ। খাবার খেতে গেলেও ক্যান্টিন বয়দের বারবার প্লেট নিতে আসাটা খুবই বিরক্তির।’ ছাত্রী হলগুলোতে পুরুষ কর্মীদের উপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানায়, নারী হলগুলোতে পুরুষ কর্মীদের কাজ করার বিষয়টি দুঃখজনক। এ সমস্যার সমাধানে একাধিকবার নারী কর্মী নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন ফান্ড বা বাজেটের অজুহাত দেখিয়ে বলে, আমরা যদি ফান্ডের ব্যবস্থা করে দিই, তবে তারা নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করবেন।’ পুরুষ কর্মীদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কবি সুফিয়া কামাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ছালমা নাছরীন গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রী হলে এমন কিছু কাজ রয়েছে, যেগুলোর দায়িত্ব নারীদের দিয়ে পালন করানো সম্ভব হয় না। হলের ক্যান্টিন পরিচালনার ক্ষেত্রেও পুরুষ কর্মীদের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা লিখিতভাবে জানাতে হবে। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে এক লিফটম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। হল প্রশাসনের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ছালমা নাছরীন বলেন, হল প্রশাসন এককভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা সিন্ডিকেটের পক্ষ থেকে ছাত্রী হলগুলোতে নারী কর্মী নিয়োগের বিষয়ে কোনো নিয়ম অনুমোদিত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পেলে হল প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়। সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, ছাত্রী হলে কোনো পুরুষ কর্মীর অসদাচরণ বা নিয়মের ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের প্রক্টর অথবা তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দিতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে ছাত্রী হলগুলোতে নারী কর্মী নিয়োগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা সময়সীমা সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। Download PhotoCard SHARES ক্যাম্পাস বিষয়: উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরাঢাবির ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মীদের অবাধ যাতায়াত