মধ্য এশিয়ায় নতুন ভূরাজনীতি, চীন-রাশিয়াকে টেক্কা দিতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশিত: ৪:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০২৬ মধ্য এশীয় অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে অক্টোবরের মাঝামাঝি উজবেকিস্তানের সমরকন্দ সফর করবেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সেখানে ‘সি৫+১’(c5+1) সম্মেলনে অংশ নেবেন রুবিও। তার এই সফরে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০টিরও বেশি কোম্পানির প্রতিনিধিরাও থাকবেন। গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলে মার্কিন ব্যবসায়িক উপস্থিতি বাড়ানোই এ সফরের অন্যতম লক্ষ্য। সি৫+১ কী? সি৫+১ হচ্ছে মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ফোরাম। এর উদ্দেশ্য হলো বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা। মধ্য এশিয়ার পাঁচ দেশ C5+1-এর পাঁচটি দেশ হচ্ছে- ১. কাজাখস্তান- আয়তনে মধ্য এশিয়ার বৃহত্তম দেশ। ২. কিরগিজস্তান-পাহাড় ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ দেশ। ৩. তাজিকিস্তান-পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও জলবিদ্যুৎসম্পদের জন্য পরিচিত। ৪. তুর্কমেনিস্তান-প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় মজুত রয়েছে। ৫. উজবেকিস্তান-আঞ্চলিক বাণিজ্য ও পরিবহন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এ পাঁচটি দেশের সঙ্গে ‘+১’ হলো যুক্তরাষ্ট্র। C5+1 কেন গুরুত্বপূর্ণ? বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: মার্কিন কোম্পানির জন্য মধ্য এশিয়ার বাজারে প্রবেশ ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ: তেল, গ্যাস এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা। নিরাপত্তা: সন্ত্রাসবাদ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে সহযোগিতা। ভূরাজনৈতিক প্রভাব: চীন ও রাশিয়ার প্রভাববলয় হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করা। কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ছে সমরকন্দে সম্মেলন আয়োজনের বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, উজবেকিস্তান সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদার করতে চায়। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান যোগাযোগের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হচ্ছে- আগামী ডিসেম্বরে মিয়ামিতে আয়োজিত জি-২০ সম্মেলনে উজবেকিস্তানে ও কাজাখস্তানের যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উজবেকিস্তানের প্রেসিডেন্ট শাভকাত মিরজিয়োয়েভ এবং কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভকে জি-২০ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটন ডিসির কেন্দ্রস্থলে বিখ্যাত উইলার্ড ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত উজবেক দূতাবাস স্বাধীনতা দিবসের সংবর্ধনার আয়োজন করে। সে অনুষ্ঠানে বক্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাশখন্দ সফরের প্রস্তাব দেন। ট্রাম্প সেখানে গেলে তা হবে মধ্য এশিয়ার এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালনরত কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম সফর। মার্কো রুবিওর আসন্ন সফরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ওয়েজ অ্যান্ড মিনস কমিটির চেয়ারম্যান জেসন স্মিথ সম্প্রতি একটি কংগ্রেসীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান ও মঙ্গোলিয়া সফর করেছেন। সফরের পর গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও সরবরাহব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৌশলগত অংশীদারত্ব নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কাজাখস্তানের আস্তানাভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘সি৫’-এর প্রেসিডেন্ট সাপারগলি শালগিমবায়েভ বলেন, ‘যারা বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পক্ষে কাজ করছেন তাদের জন্য কংগ্রেসে এত উচ্চপর্যায়ে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে দেখা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।’ এর পাশাপাশি দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গরও সম্প্রতি তাশখন্দে উজবেক প্রেসিডেন্ট মিরজিয়োয়েভের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রেও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। উজবেক প্রেসিডেন্টের প্রশাসনপ্রধান এবং প্রেসিডেন্টের মেয়ে সাইদা মিরজিয়োয়েভা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে তার একটি টেলিগ্রাম পোস্টে জানানো হয়েছে। তবে, এ বৈঠক সম্পর্কে দুই দেশের কোনো সরকারই বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে কূটনৈতিক উপস্থিতিও বাড়াচ্ছে উজবেকিস্তান। ওয়াশিংটনে দূতাবাস ও নিউইয়র্কে কনস্যুলেট থাকার পাশাপাশি সেপ্টেম্বরের শুরুতে সিয়াটলে নতুন কনস্যুলেট জেনারেল আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করেছে দেশটি। তাশখন্দ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের সময়েই নতুন এই কনস্যুলেট চালু হলো। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্র ও উজবেকিস্তানের বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত হচ্ছে। গত জুনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জামিসন গ্রিয়ার তাশখন্দ সফর করেন। এ সময় দুই দেশের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও বিনিয়োগ জোরদার করতে বেশ কিছু অঙ্গীকারসংবলিত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সম্ভাব্য নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২০২৫ সালে উজবেকিস্তান সর্বোচ্চ ২২টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ কেনার জন্য ৮৫০ কোটি ডলারের একটি চুক্তির ঘোষণা দেয়। দেশটির বাণিজ্যিক বিমান পরিবহন খাত আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন উড়োজাহাজগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি করতে পারে। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ, পর্যটন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে, বিনিয়োগের প্রবাহ অবশ্য একমুখী নয়। উজবেকিস্তানের প্রতিষ্ঠান ‘এএফকেএ’ যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের বোলিং গ্রিন শহরে একটি উৎপাদন কারখানা নির্মাণ করছে। এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রে উজবেক কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রথম উৎপাদন কারখানা। এখানে ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই প্রকল্প দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের প্রসারের পাশাপাশি একটি প্রচলিত ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করছে—যুক্তরাষ্ট্রই কেবল মধ্য এশিয়ায় বিনিয়োগ করে না; এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানও যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ করতে পারে। তবে, সমরকন্দে সি৫+১ সম্মেলন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মধ্য এশিয়ার ব্যবসায়ীদের বৈঠক থেকে অদূর ভবিষ্যতে নতুন বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক চুক্তি হবে কি না তা এখনো অনিশ্চিত। সংবর্ধনা বা কর্মমধ্যাহ্নভোজে করমর্দন সহজ হলেও চুক্তি চূড়ান্ত করতে দীর্ঘ সময় ও আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে। প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত রাখা জরুরি যুক্তরাষ্ট্র ও উজবেকিস্তানের সহযোগিতার অন্য ক্ষেত্রগুলোতে অগ্রগতি তুলনামূলক সীমিত। ২০১২ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি ন্যাশনাল গার্ড উজবেক সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে। তবে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানসহ নানা কারণে মধ্য এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে মার্কিন সামরিক সমন্বয় কমেছে। প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্র ও উজবেকিস্তানের সহযোগিতার সম্ভাবনার ক্ষেত্রেও প্রতিযোগিতা বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উন্নয়নে সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে চীনের উদ্যোগে গঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কো-অপারেশন’ (ডব্লিউএআইসিও)-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য উজবেকিস্তান। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন নিজস্ব জোট ‘প্যাক্স সিলিকা’ গড়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় না কোনো দেশ একই সঙ্গে দুই জোটের সদস্য থাকুক। কাজাখস্তান বর্তমানে ডব্লিউএআইসিও ও প্যাক্স সিলিকা-উভয় জোটের সদস্য। এ দুটির মধ্যে কোনো একটি পক্ষ বেছে নিতে আস্তানার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন। উজবেকিস্তান একই ধরনের কৌশল নেবে এমন সম্ভাবনা কম। তবে ডব্লিউএআইসিওতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় প্রযুক্তিগত জোটের ক্ষেত্রে তাশখন্দের ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব খাটানোর সুযোগ সীমিত হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও উজবেকিস্তানের সম্পর্কের অগ্রগতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হতে পারে-সি৫+১ সম্মেলনে যোগ দিতে রুবিওর সফল সফর এবং জি-২০ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট মিরজিয়োয়েভের অংশগ্রহণ। এসব উদ্যোগ ওয়াশিংটন-তাশখন্দ সম্পর্কের পাশাপাশি বৃহত্তর যুক্তরাষ্ট্র-মধ্য এশিয়া সম্পর্কেও আগামী বছরের জন্য ইতিবাচক গতি তৈরি করতে পারে জানিয়েছে ফরেন ডিপ্লোমেসি। তবে, বিষয়টি সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনকে একই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা সংকট সামলাতে হচ্ছে। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন, ইরানে নতুন করে সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের বিস্তার কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার মতো বিষয় মধ্য এশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে পারে। ফলে রুবিওর আসন্ন সফরের প্রভাবও সীমিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক উদ্যোগ রুবিওর সফরের পরও দুই দেশের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অর্থবহ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প হাতে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে। এর একটি সম্ভাব্য পদক্ষেপ হলো যুক্তরাষ্ট্রের ‘জ্যাকসন-ভ্যানিক সংশোধনী’ প্রত্যাহার করা। তবে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের সম্ভাবনা খুবই কম। একইভাবে বোয়িংয়ের নতুন উড়োজাহাজের মাধ্যমে তাশখন্দ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরের মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা গেলে পর্যটন বাড়তে পারে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-উজবেকিস্তান সহযোগিতাকে জ্বালানি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। উজবেকিস্তানের অন্যান্য শিল্প ও অর্থনৈতিক খাতেও উন্নয়নের যথেষ্ট সুযোগ আছে। তবে ওয়াশিংটন ও তাশখন্দের সম্পর্ক বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। মধ্য এশিয়ায় প্রভাব বাড়াতে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোর পাশাপাশি তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ কোরিয়া ও আজারবাইজানের মতো দেশও সক্রিয় রয়েছে। আজারবাইজান ও উজবেকিস্তানের মধ্যেও অংশীদারত্ব বাড়ছে। দুই দেশ বাণিজ্য ১০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এবং কাস্পিয়ান সাগর পেরিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের আগে আরব দেশগুলো মধ্য এশিয়ায় বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু সংঘাতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকটের কারণে আরব বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। চলমান বৈশ্বিক সংকট ও আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারও বদলে যেতে পারে। অর্থাৎ, মধ্য এশিয়ায় অংশীদারত্ব জোরদার করতে ওয়াশিংটনকে ধারাবাহিক ও গতিশীল কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। কারণ, ভৌগোলিকভাবে কাছাকাছি অন্যান্য শক্তিও এ অঞ্চলে সক্রিয়। উজবেকিস্তান সরকার নিঃসন্দেহে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়নকে স্বাগত জানাবে। ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন-তাশখন্দ সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্পর্ককে আরও বহুমুখী করে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিকশিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর এবং শতাধিক মার্কিন কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়ে ‘ঐতিহাসিক’ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের মধ্য এশিয়া সফর গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সফরের পর কী ঘটে। কারণ, বৈঠকগুলোর প্রকৃত ফলাফল বোঝা যাবে পরবর্তী পদক্ষেপ ও বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই। Download PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: চীন-রাশিয়াকে টেক্কা দিতে তৎপর যুক্তরাষ্ট্রমধ্য এশিয়ায় নতুন ভূরাজনীতি