ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকের পদত্যাগ দাবি সচেতন গ্রাহক ফোরামের প্রকাশিত: ২:২১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রশাসক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনের পদত্যাগ দাবি করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, চলমান মামলার অগ্রগতি এবং প্রশাসকের এখতিয়ারভুক্ত বিভিন্ন বিষয়ে দৃশ্যমান সমাধান না হওয়ায় এ দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে দ্রুত সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর পরিচালনা পর্ষদ গঠনে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপ চেয়েছে ফোরাম। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিলের আগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক নুর নবী মানিক। কর্মসূচিতে ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ আমানতকারীরা অংশ নেন। অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর চলমান মামলাগুলোকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়া এবং দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়ার কথা থাকলেও তিন মাসের বেশি সময়ে তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ব্যাংকের সমস্যা সমাধানে কার্যকর কোনো পদক্ষেপও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, প্রশাসকের এখতিয়ারভুক্ত অনেক বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন কোনো নির্দেশনা ছাড়াই সমাধান করার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেসব ক্ষেত্রেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং বাংলাদেশ ব্যাংকের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন বিষয় কেন্দ্রীয় ব্যাংককে অবহিত করার মধ্যেই কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জহির হোসেনের পদত্যাগ দাবি করে নুর নবী মানিক বলেন, ‘যিনি তার এখতিয়ারের মধ্যে থাকা বিষয়গুলো সমাধান করছেন না এবং ইসলামী ব্যাংককে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা পালন করছেন না, গ্রাহকদের পক্ষ থেকে আমরা তাঁকে অনুরোধ করব, আপনার যে কর্মস্থল, সেই কর্মস্থলে আপনি ফিরে যান। আপনার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে আপনি কর্মস্থলে ফিরে যান।’ তিন মাসেও হয়নি পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গত ১৪ জুন ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের নিয়োগ বাতিল করে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পরিচালনা পর্ষদের সব ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পর জহির হোসেন ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন জোরদার এবং আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাসের বেশি সময় পার হলেও পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন তুলেছে গ্রাহক ফোরাম। সংগঠনটির দাবি, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সুশাসন নিশ্চিত করতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে ইসলামী ব্যাংকের জন্য কার্যকর পরিচালনা পরিষদ গঠনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি ব্যাংকের মালিকানা, ঋণ অনিয়ম, লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার, চলমান মামলা এবং সুশাসন নিশ্চিত করার বিষয়েও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়। দুই পক্ষের কর্মসূচিতে উত্তেজনা ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সম্প্রতি গ্রাহক ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। গত ১৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন। ওই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সংবাদ সম্মেলনে গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগও করা হয়। একটি পক্ষ নিজেদের লোকজনকে ব্যবহার করে ব্যাংকে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন ফোরামের নেতারা। তাদের অভিযোগ, আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া বিষয়গুলোও নতুন করে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে সামনে আনার চেষ্টা চলছে। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা বিভিন্ন জায়গা থেকে অর্থসহায়তা পেয়েছেন এমন তথ্য বিভিন্ন সূত্রে পাওয়ার দাবি করেন তারা। তবে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট নথি বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফোরামের নেতারা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের আমানত ও আর্থিক নিরাপত্তা জড়িত। তাই ব্যাংকের পরিচালনায় দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা না রেখে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যদিকে, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মোহাম্মদ জহির হোসেন জানিয়েছিলেন, ইসলামী ব্যাংকের জন্য সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি গ্রাহকদের ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। ইএআর/এসএনআর Download PhotoCard SHARES অর্থনীতি বিষয়: ইসলামী ব্যাংকের প্রশাসকের পদত্যাগ দাবি সচেতন গ্রাহক ফোরামের