অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় নতুন নিয়ম, বাংলাদেশিদের যা জানা জরুরি প্রকাশিত: ১২:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ অস্ট্রেলিয়ায় কাজের ভিসায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? দক্ষ কর্মীদের জন্য ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়াকরণে নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালু করেছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে সব আবেদন একই ক্রমে প্রক্রিয়াকরণ হবে না। আবেদনকারীর পেশা বা খাত, আবেদন করার সময় তিনি অস্ট্রেলিয়ায় ছিলেন কি না এবং ভিসার ধরন এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে কোন আবেদন আগে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। নতুন ব্যবস্থা ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে। এটি আগের মন্ত্রী পর্যায়ের নির্দেশনা ১১৯-এর প্রক্রিয়াকরণ অগ্রাধিকারকে প্রতিস্থাপন করেছে। তবে বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়মে ভিসার যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন করা হয়নি। অর্থাৎ কে ভিসার জন্য যোগ্য, সেই নিয়ম আলাদা; নতুন নির্দেশনা মূলত ঠিক করছে যোগ্য আবেদনগুলোর মধ্যে কোনগুলো আগে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। কোন খাতে আবেদন করলে অগ্রাধিকার? মন্ত্রী পর্যায়ের নির্দেশনা ১২১ অনুযায়ী অস্থায়ী দক্ষ কর্মী ভিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে। এর মধ্যে রয়েছে— নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকতা ও শিক্ষা, কৃষি, অ্যাকুয়াকালচার বা জলজ চাষ, মৎস্য এবং প্রাকৃতিক সম্পদ বা রিসোর্স খাত। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রতিরক্ষা খাতের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত আবেদনও এই অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় কাজের সুযোগ খুঁজছেন এমন আবেদনকারীদের জন্য তাই নিজের পেশা বা চাকরির ক্ষেত্রটি এই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোর সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ। ৪৮২ ভিসায় কারা পরের অগ্রাধিকার পাবেন? এর পরের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসা (সাবক্লাস ফোর এইট টু)-এর স্পেশালিস্ট স্কিলস স্ট্রিম-এর আবেদনগুলোকে। এরপর আবেদনকারীর অবস্থান বিবেচনা করা হবে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারী কোথায় ছিলেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করে করা আবেদন আগে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। অস্ট্রেলিয়ার বাইরে থেকে করা আবেদন পরে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশে বসে অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসার আবেদন করলে, একই ধরনের কোনও আবেদনের ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আবেদনকারীর আবেদন আগে প্রক্রিয়াকরণ হতে পারে। তবে বিদেশ থেকে করা আবেদনকে সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার শ্রেণিতে পড়তে হলে সেটি কখনো অন্য কোনো ব্যক্তির আবেদনের সঙ্গে একত্রিত হয়ে থাকা যাবে না। এই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত শ্রেণিগুলোর পর অন্যান্য আবেদন প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। পুরোনো ৪৮২ ভিসার বিষয়টি কী? নতুন নির্দেশনায় স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসা (সাবক্লাস ফোর এইট টু)-এর পাশাপাশি আগের টেম্পোরারি স্কিল শর্টেজ ভিসা (সাবক্লাস ফোর এইট টু)-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, ৭ ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে টেম্পোরারি স্কিল শর্টেজ ভিসার পরিবর্তে স্কিলস ইন ডিমান্ড ভিসা চালু হয়েছে। স্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রেও বদলেছে অগ্রাধিকার শুধু অস্থায়ী ভিসা নয়, স্থায়ী ভিসার আবেদনেও নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা প্রযোজ্য। নির্মাণ, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষকতা, কৃষি, অ্যাকুয়াকালচার, মৎস্য ও রিসোর্স খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত আবেদনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও প্রতিরক্ষা খাতের স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত আবেদনও অগ্রাধিকার পাবে। এরপর অগ্রাধিকার পাবে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত অবস্থায় জমা দেওয়া আবেদন। তার পরে থাকবে এমন আবেদন, যেখানে প্রধান আবেদনকারী আবেদন করার সময় অস্ট্রেলিয়ার বাইরে ছিলেন। এ ক্ষেত্রেও আবেদনের সঙ্গে অন্য কোনও ব্যক্তির আবেদন একত্রিত করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট অগ্রাধিকার প্রযোজ্য হবে না। আগের আবেদনকারীদের কী হবে? নতুন নিয়ম ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হলেও এটি শুধু নতুন আবেদনের জন্য নয়। ওই তারিখের আগে জমা দেওয়া এবং বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আবেদনগুলোর ক্ষেত্রেও নতুন প্রক্রিয়াকরণ অগ্রাধিকার প্রযোজ্য হবে। তাই আগে আবেদন করেছেন এমন বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থার প্রভাব পড়তে পারে। ভিসা পেতে কত সময় লাগবে? নতুন অগ্রাধিকার থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভিসা প্রক্রিয়াকরণ হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অফ হোম অ্যাফেয়ার্স জানিয়েছে, আবেদন প্রক্রিয়াকরণের সময় বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে— প্রয়োজনীয় সব নথি আবেদনপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে কি না, অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হলে আবেদনকারী কত দ্রুত তা সরবরাহ করছেন, স্বাস্থ্য ও চরিত্র যাচাই সম্পন্ন হতে কত সময় লাগছে, জাতীয় নিরাপত্তা যাচাইয়ের প্রয়োজন হচ্ছে কি না এবং তা কত সময় নিচ্ছেম, আবেদনের জটিলতা ও সংশ্লিষ্ট সময়ে কতসংখ্যক আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থায়ী ভিসার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ অস্ট্রেলিয়ার মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের অধীনে কতগুলো ভিসার স্থান রয়েছে। এর ওপরও প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য মূল কথা অস্ট্রেলিয়ায় দক্ষ কর্মী হিসেবে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু নিজের পেশা ভিসার জন্য যোগ্য কি না, সেটিই নয়। আপনার পেশা কোন অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে পড়ে, আবেদন করার সময় আপনি কোথায় অবস্থান করছেন এবং আপনার আবেদন সঠিকভাবে সম্পূর্ণ করা হয়েছে কি না, সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে অগ্রাধিকার পাওয়া মানেই ভিসা নিশ্চিত হওয়া নয়। ভিসার যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত আলাদাভাবে পূরণ করতে হবে। Download PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ কর্মী ভিসায় নতুন নিয়মবাংলাদেশিদের যা জানা জরুরি