গাজায় গণহত্যা নিয়ে এরদোয়ানের তোপ, বেরিয়ে গেলেন ইসরায়েলিরা

প্রকাশিত: ১:০৯ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

জাতিসংঘের মঞ্চে গাজা ও ফিলিস্তিন নিয়ে সরব হয়েছেন বিশ্বনেতারা। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যার মানসিকতা’ নিয়ে চলার অভিযোগের পাশাপাশি জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা।

এবার গাজায় গণহত্যা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন এরদোয়ান। এসময় ইসরায়েলি প্রতিনিধিদল অধিবেশন কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। অন্যদিকে, সেখানে উপস্থিত ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিরা তাকে করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।

আরও পড়ুন

ফিলিস্তিনের পক্ষে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্য-কানাডা, ইসরায়েলের তীব্র সমালোচনা

বক্তব্যে এরদোয়ান বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহায়তায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ভূমিকা রাখলেও গাজায় এখনো বেসামরিক মানুষের মৃত্যু থামেনি। কথিত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও গাজায় ১ হাজার ৩০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

এরদোয়ান আরও বলেন, হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ মেনে নিলেও ইসরায়েল গাজা ও পশ্চিম তীরে কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি।

একই সঙ্গে, বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গাজার পরিস্থিতিকে ‘সবচেয়ে অমানবিক ও লজ্জাজনক বন্দিশিবির’ হিসেবে বর্ণনা করে সেখানে ইসরায়েলের ‘গণহত্যার মানসিকতা’ দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এরদোয়ান।

জাতিসংঘেরও সমালোচনা করেন এরদোয়ান। ৮১ বছর আগে বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত হলেও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি বলে দাবি করেন তিনি। এসময় ফিলিস্তিন, লেবানন ও সুদানের পরিস্থিতি জাতিসংঘের এ দুর্বলতার প্রমাণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে, জাতিসংঘের অধিবেশনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের অনুপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন এরদোয়ান।

যুক্তরাষ্ট্র ভিসা না দেওয়ায় আব্বাস বিশ্বনেতাদের বৈঠকে উপস্থিত হতে পারেননি। গত দুই বছরে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানান এরদোয়ান।

তিনি বলেন, আব্বাস সরাসরি উপস্থিত না থাকলেও তুরস্ক আগের বছরের মতো এবারও স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলে যাবে।