বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম প্রকাশিত: ২:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ বিশ্বের বড় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদহার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে-এমন আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের নজর এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদহার নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দিকে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমে আসে। তবে ডিসেম্বর সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩৮৩ দশমিক ১০ ডলারে উঠেছে। এদিকে মার্কিন ডলার দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। ডলারের দাম শক্তিশালী হলে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এতে স্বর্ণের চাহিদায়ও প্রভাব পড়তে পারে। ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রড্ডা বলেন, স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণের দামের ওঠানামা অনেকটাই নির্ভর করবে তেলের দাম ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারের কাঠামোগত চালিকাশক্তিগুলো এখনো শক্তিশালী। সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদহার বেশি থাকলে সুদ থেকে আয় করা সম্পদের আকর্ষণ বাড়ে। ফলে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ কমতে পারে। এদিকে যুদ্ধ বন্ধে কোনো সমঝোতা না হলে ইরানকে ‘ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে জাতিসংঘে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে শিগগিরই একটি সমঝোতা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। বস্টন ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট সুসান কলিন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকার ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে গত সপ্তাহে সুদহার বাড়ানোর মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেছেন। তবে চলতি বছর সুদহার নির্ধারণকারী ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটিতে ভোটাধিকার না থাকা কলিন্স ভবিষ্যতে আবার সুদহার বাড়ানোর পক্ষে রয়েছেন কি না, তা জানাননি। গত সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভ নীতিনির্ধারণী সুদহার ২৫ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশে নির্ধারণ করেছে। বছরের শেষ হওয়ার আগে আরও এক দফা সুদহার বাড়ানোর সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দিয়েছে তারা। সম্প্রতি ব্যাংক অব জাপান ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদহার বাড়িয়েছে। বিএমআইয়ের বিশ্লেষকেরা ২০২৬ সালে স্বর্ণের গড় দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪০০ ডলার থাকবে—এমন পূর্বাভাস বহাল রেখেছেন। তাঁদের মতে, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত স্বর্ণ কেনার কারণে দাম ৩ হাজার ৮০০ ডলারের কাছাকাছি একটি শক্ত অবস্থান ধরে রাখতে পারে। এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৮১৫ দশমিক ১১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩০১ দশমিক ৬০ ডলারে নেমেছে। Download PhotoCard SHARES আন্তর্জাতিক বিষয়: বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম