ম্যাডামের মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট, এক মাসেও সনদ পাননি কুবি শিক্ষার্থী প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী ম্যাডামের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার ঘটনায় প্রায় এক মাস ধরে তার বিবিএ ও এমবিএর সনদ উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। সনদ নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক তাকে একটি পাল্টা মেসেজ দেন। ওই মেসেজে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। পরে তার এ আচরণকে শিক্ষকের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার সই করা একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকের মেসেজে শিক্ষার্থীর ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়াকে ‘অসম্মানজনক’ আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া ভুক্তভোগীর লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিবিএ ও এমবিএর সনদ উত্তোলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তবে বিভাগীয় প্রধান তার আবেদনে সই করেননি। তাকে জানানো হয়, তার নামে একটি অভিযোগ থাকায় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে সনদ উত্তোলনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আবেদনে মুজিবুর রহমান উল্লেখ করেন, অভিযোগটি কী বিষয়ে এবং কেন তাকে সনদ উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না—এ বিষয়ে লিখিত কারণ জানতে চাইলেও তাকে কোনো লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় বিষয়েও কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সনদ আটকে রাখার বিষয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দিলে তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা জমা দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা কমিটির সময় কিছু বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। কারণ অনেকগুলো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। তবে কমিটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে পারব।’ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, ‘আমার সনদটা খুবই প্রয়োজন ছিল। আগস্টের ২৯ তারিখে আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমার মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ, রেজাল্ট হয়ে গেছে, সনদ তৈরি হয়ে গেছে। তাই আমি বিবিএ ও এমবিএ—দুটি সনদই তুলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার একটি সনদও দেননি, একটি সনদেও সাইন করেননি। বিবিএটাও তুলতে পারিনি, এমবিএটাও তুলতে পারিনি’ তিনি বলেন, ‘এ কারণে আমার অনেকগুলো সার্কুলার মিস হয়েছে। বিষয়টির জন্য রেজিস্ট্রারের কাছে বারবার গেছি, দপ্তর থেকে দপ্তরে গেছি, বিভাগেও কয়েকবার গেছি। এমনকি উপ-উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।’ এ বিষয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, ‘সনদ প্রদান বা বিভাগীয় ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’ সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিনের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন ওই শিক্ষার্থী। এ বিষয়ে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ সম্পর্কে তো আমি কিছুই জানি না। কারণ আমিও জানি না এটা কী হচ্ছে। আমি যতটুকু শুনেছি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারপর কী হচ্ছে না হচ্ছে, আমি একেবারে অবগত না। আমাকে কেউ, ইভেন ডাকেও নাই, কিছু জিজ্ঞাসা করে নাই।’ জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, ‘সনদ কেন আটকে রাখছে, বিভাগীয় প্রধানকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী এখন যেকোনো সময় সনদ নিতে পারবে।’ Download PhotoCard SHARES ক্যাম্পাস বিষয়: এক মাসেও সনদ পাননি কুবি শিক্ষার্থীম্যাডামের মেসেজে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট