অফিসে মুখ গোমড়া? আজ খিটখিটে সহকর্মীদেরই দিন!

প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

অফিসে ঢুকেই কাউকে দেখলেন মুখ ভার করে বসে থাকতে। শুভ সকাল বলতেই এমনভাবে তাকালেন, যেন সকালের সবচেয়ে বড় অপরাধটাই আপনি করে ফেলেছেন! আবার কেউ আছেন, অফিসের পরিবেশ যতই সুন্দর হোক, কাজের চাপ যতই কমুক, তার অভিযোগের ঝুলি কখনও খালি হয় না। চা ঠান্ডা, এসি বেশি ঠান্ডা, মিটিং দীর্ঘ, সহকর্মীরা বেশি কথা বলেন- কোনও না কোনও কারণে বিরক্তি থাকবেই। আর সাহায্য করতে গেলেও যদি উল্টো দুটো কড়া কথা শুনতে হয়, তাহলে তো কথাই নেই!

অফিসের এমন ‘নেগেটিভ ন্যান্সি’ কিংবা ‘ডাউটিং ড্যানিয়েল’দের জন্যই রয়েছে মজার এক দিবস- ‘ক্র্যাঙ্কি কো-ওয়ার্কার্স ডে’, বাংলায় বলা যায় খিটখিটে সহকর্মী দিবস। দিনটি তাদের নিয়ে একটু হাসিঠাট্টা করার, আবার নিজের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গোমড়া মুখের মানুষটিকেও চিনে নেওয়ার সুযোগ। তবে সাবধান, মজা করতে গিয়ে যেন অফিসের পরিবেশটাই আরও খিটখিটে হয়ে না ওঠে!

খিটখিটে সহকর্মীদের জন্য আলাদা দিবস কেন?

মানুষ একসঙ্গে কাজ করতে শুরু করার পর থেকেই সহকর্মীদের মধ্যে মতের অমিল, বিরক্তি আর মনোমালিন্য দেখা দিয়েছে। কেউ কাজের ফাঁকে হাসি-আনন্দে মেতে থাকেন, কেউ আবার হাসিমুখ দেখালেও মনে হয় যেন তার কাছে অফিসের প্রতিটি দিনই রবিবার!

তবে খিটখিটে সহকর্মী দিবসের উদ্দেশ্য কাউকে অপমান করা নয়, বরং হাস্যরসের মাধ্যমে এমন স্বভাবকে তুলে ধরা। দিবসটির সূচনা করেন ওয়েলক্যাট হলিডেজের প্রতিষ্ঠাতা রুথ ও থমাস রয়। মার্কিন অভিনেতা থমাস রয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের পাশাপাশি কণ্ঠাভিনয় এবং রেডিওতে কাজের জন্যও পরিচিত। কয়েক বছর ধরেই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

খিটখিটে মেজাজ নিয়ে মজা করার মতো আরও দিবস রয়েছে। ১৫ অক্টোবর পালিত হয় ‘ন্যাশনাল গ্রাউচ ডে’। ফেব্রুয়ারিতে রয়েছে ‘ন্যাশনাল ডু আ গ্রাউচ আ ফেভার ডে’, যার ভাবনা হলো সব সময় গোমড়া মুখে থাকা কাউকে ছোট্ট একটি উপকার করে তার দিনটা একটু ভালো করে তোলা। অর্থাৎ, কারও মুখের মেঘ সরাতে সব সময় বড়সড় আয়োজন লাগে না। এক কাপ চা কিংবা একটু আন্তরিকতাও কাজে আসতে পারে।

পর্দায় দেখুন খিটখিটে সহকর্মীদের কাণ্ডকারখানা

বাস্তবের অফিসে খিটখিটে সহকর্মীদের সামলাতে গিয়ে যদি ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে পর্দার চরিত্রদের দেখে একটু বিনোদন নিতে পারেন। ‘দ্য অফিস’ সিরিজের স্ট্যানলি হাডসন কর্মক্ষেত্রে বিরক্ত ও অনাগ্রহী সহকর্মীর পরিচিত উদাহরণ। লেসলি ডেভিড বেকারের অভিনয়ে তাঁর মুখভঙ্গি আর কাজের প্রতি অনীহা দেখলে মনে হতে পারে, এমন কাউকে না কাউকে নিজের অফিসেও দেখেছেন!

‘পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন’-এর এপ্রিল লাডগেটও কম যান না। অউব্রে প্লাজার অভিনয়ে তাঁর ব্যঙ্গাত্মক আচরণ আর নির্লিপ্ত মুখভঙ্গি হাসির খোরাক জোগায়। অন্যদিকে, নিক অফারম্যানের অভিনয়ে রন সোয়ানসনের রুক্ষ স্বভাবও মনে করিয়ে দেয় কিছু মানুষ কথা কম বললেও তাদের গম্ভীর মুখই অনেক কিছু বলে দেয়।

কখনও কিছু না করাই ভালো

খিটখিটে সহকর্মীকে খুশি করার জন্য সব সময় চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে, এমন নয়। কেউ যদি একা থাকতে চান, তাকে সেই সুযোগ দিন। তার প্রতিটি অভিযোগের জবাব দেওয়া কিংবা প্রতিবার মেজাজ ভালো করার চেষ্টা করাও জরুরি নয়। বরং কখনও কখনও নিজের কাজে মন দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা এড়িয়ে চলাই শান্তির পথ।

রাগী বিড়ালের মিমে জমুক দিবসের মজা

খিটখিটে সহকর্মী দিবসে রাগী বিড়ালের মিম পাঠানোও হতে পারে মজার আয়োজন, বিশেষ করে যদি সহকর্মীরা এমন রসিকতা উপভোগ করেন। চাইলে নিজের বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা নিয়েও হাসাহাসি করতে পারেন। তবে কাউকে লক্ষ্য করে এমন কিছু পাঠাবেন না, যাতে তিনি অপমানিত বোধ করেন।

নিজের মেজাজও সামলে রাখুন

খিটখিটে সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কখন নিজেরই মেজাজ বিগড়ে যাচ্ছে, তা খেয়াল রাখা জরুরি। কোন আচরণ আপনাকে সবচেয়ে বেশি বিরক্ত করে, তা বুঝতে চেষ্টা করুন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব না দিয়ে একটু সময় নিন। প্রয়োজন ছাড়া কথাবার্তা বাড়াবেন না, আবার কাউকে নিজের মতো করে বদলে দেওয়ার চেষ্টাও করবেন না।

সবশেষে মনে রাখা ভালো, অফিসে সবার স্বভাব এক রকম হবে না। কেউ প্রাণখোলা, কেউ চুপচাপ, কেউ আবার একটু বেশি গম্ভীর। খিটখিটে সহকর্মী দিবসের আসল মজা হলো এই বৈচিত্র্যকে হাস্যরসের চোখে দেখা। তাই আজ অফিসের সেই মুখ গোমড়া সহকর্মীকে দেখে বিরক্ত না হয়ে মনে মনে একটু হাসুন। আর যদি আয়নায় নিজের মুখটাই বেশি গোমড়া দেখায়, তাহলে বুঝবেন দিবসটি শুধু সহকর্মীদের জন্য নয়, আপনার জন্যও বেশ মানানসই!