জিলা স্কুল নাকি স্টেডিয়াম, কুষ্টিয়ায় জামায়াতের সমাবেশ নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশিত: ১১:১১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২৬

আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা-যশোর-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ শেষে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল চত্বরে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ায় শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। সমাবেশের স্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের প্রচার চললেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভ্রান্তি।অন্যদিকে জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর সমাবেশের জন্য শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ১৩ অক্টোবর জেলা জামায়াতে ইসলামের প্যাডে আবেদন করেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি এনামুল হক। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জাকিউল আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে আটটি শর্ত সাপেক্ষে স্টেডিয়াম মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রচার করা হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে ২৬ (অক্টোবর) দুপুরে বিক্ষোভ করেছেন স্কুলটির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা আলমগীর হোসেন বলেন, জিলা স্কুল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া উচিত। সমাবেশের স্থান নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, সেটিও দ্রুত পরিষ্কার করা দরকার।স্থানীয় রাকিব হাসান বলেন, সমাবেশ কোথায় হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের প্রচার চলছে, অন্যদিকে স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতির কথা জানা যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন। যাতে সাধারণ মানুষ কোনো বিভ্রান্তির মধ্যে না থাকেন।এদিকে জিলা স্কুলের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে সমাবেশের স্থান নির্ধারণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একদিকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি, অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ ব্যবহারে আপত্তি, সব মিলিয়ে ৩১ অক্টোবরের সমাবেশ ঘিরে কুষ্টিয়ায় তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।অপরদিকে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির এ কে এম খন্দকার আলী মহসিন দাবি করেছেন, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশ করার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি পাওয়া গেছে।তিনি বলেন, পূজার ছুটির কারণে অফিস বন্ধ ছিল। বিভাগীয় কমিশনার অনুমতি দিয়েছেন। ফলে একই দিনে সমাবেশের স্থান নিয়ে দুই ধরনের তথ্য সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন না করাটাই উত্তম। এছাড়া মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, আগামী ৩১ অক্টোবরের সমাবেশের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি।