এই সময়ে চোখে জ্বালাপোড়া? যেভাবে দূর করবেন প্রকাশিত: ১২:২৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬ বাতাসে দূষণের মাত্রা বেড়ে গেলে, ধোঁয়াশা বা স্মগ-এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে অনেকেই ঘরের ভেতরে থাকতে পছন্দ করেন। তবে দিনের বেশিরভাগ সময় বাড়িতে কাটানোর পরেও, অনেকের চোখ জ্বালা করা, চুলকানো, লাল হয়ে যাওয়া বা চোখ থেকে অতিরিক্ত পানি পড়ার মতো সমস্যা হতে পারে। এর কারণ হলো, ঘরের ভেতরের বাতাসও সবসময় দূষণমুক্ত থাকে না। সূক্ষ্ম ধূলিকণা এবং বাতাসে ভেসে থাকা অন্যান্য বিরক্তিকর উপাদান ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। বাইরে না গেলেও এসব উপাদান চোখের সংবেদনশীল পৃষ্ঠের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। ঘরের ভেতরে থাকলেও কেন চোখ জ্বালা করে? ঘরের ভেতরটা বাইরের দূষণ থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিলেও, তা পুরোপুরি দূষণমুক্ত নয়। খোলা জানালা, দরজা, ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা বা ছোটখাটো ফাঁকফোকর দিয়ে দূষক পদার্থ ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। এই কণাগুলো বাতাসে ভেসে থাকতে পারে অথবা কোনো কিছুর ওপর জমা হয়ে পরবর্তীতে আবার বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এগুলো যখন চোখের সংস্পর্শে আসে, তখন চোখের সংবেদনশীল পৃষ্ঠে জ্বালা সৃষ্টি করে এবং অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চোখ অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ এর বাইরের অংশটি সর্বদা চারপাশের পরিবেশের সংস্পর্শে থাকে। ত্বকের মতো চোখের ওপর কোনো সুরক্ষামূলক আবরণ (যেমন- পোশাক) থাকে না, যা বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষতিকর উপাদান থেকে চোখকে রক্ষা করতে পারে। ধোঁয়াশা কীভাবে চোখের ক্ষতি করে? চোখের ওপর অশ্রুর একটি পাতলা স্তর থাকে, যা চোখের উপরিভাগকে আর্দ্র, মসৃণ ও আরামদায়ক রাখে। এটি পরিবেশের ক্ষতিকর উপাদানগুলোর বিরুদ্ধে সুরক্ষার প্রথম স্তর হিসেবে কাজ করে। ব্রিটিশ জার্নাল অফ অপথালমোলজি-তে প্রকাশিত একটি গবেষণা অনুযায়ী, বায়ুদূষণের সংস্পর্শে এলে চোখের এই সুরক্ষামূলক স্তরটি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার ফলে চোখের পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। এর ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়া, খসখসে ভাব, চুলকানি বা অস্বস্তির সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও, দূষক পদার্থ চোখের উপরিভাগে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে, যার ফলে চোখ লাল হয়ে যাওয়া, অতিরিক্ত পানি পড়া কিংবা চোখে কিছু আটকে আছে বলে মনে হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যাদের আগে থেকেই চোখ শুষ্ক থাকার সমস্যা (ড্রাই আই), অ্যালার্জি বা চোখের অন্য কোনো জটিলতা রয়েছে, ধোঁয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণগুলো আরও তীব্র হতে পারে। স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার সময় চোখের জ্বালাপোড়া আরও বাড়তে পারে। মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের সময় মানুষ সাধারণত কম চোখের পলক ফেলে, যার ফলে চোখের পানি দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং চোখের শুষ্কতা আরও বেড়ে যায়। ঘরের ভেতরের ফ্যান বা এয়ার কন্ডিশনার কি সমস্যা আরও বাড়াতে পারে? হ্যাঁ, ঘরের ভেতরের কিছু পরিবেশগত পরিস্থিতি চোখের অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলতে পারে। ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনার এবং ঘরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাগুলো (হিটিং সিস্টেম) চোখের পানি শুকিয়ে ফেলতে পারে অথবা বাতাসে ধুলোবালি ও অন্যান্য কণা ছড়িয়ে দিতে পারে। এটি নির্ভর করে পরিবেশ এবং যন্ত্রগুলো কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ওপর। এর মানে হলো, চোখের অস্বস্তির তীব্রতা কেবল বাইরের দূষণের মাত্রার ওপরই নির্ভর করে না। ঘরের ভেতরের বাতাসের মান, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা (ভেন্টিলেশন) এবং ব্যক্তিগত চোখের স্বাস্থ্যও এই লক্ষণগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। চোখকে যেভাবে সুরক্ষিত রাখবেন কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ক্ষতিকারক উপাদানের সংস্পর্শ কমানো যায় এবং চোখের অস্বস্তি থেকে স্বস্তি পাওয়া সম্ভব। তীব্র দূষণের সময় জানালা বন্ধ রাখুন: দূষণের মাত্রা বেশি থাকলে বাইরের দূষিত বাতাস ভেতরে আসা রোধ করুন; তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখুন। এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করুন: উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পার্টিকুলেট এয়ার ফিল্টারযুক্ত এয়ার পিউরিফায়ার ঘরের বাতাসে ভাসমান কণা কমাতে সাহায্য করতে পারে। চোখ ঘষবেন না: চোখ ঘষলে জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে এবং চোখের উপরিভাগের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। লুব্রিকেটিং আই ড্রপ ব্যবহারের কথা বিবেচনা করুন: কৃত্রিম চোখের পানি (আর্টিফিশিয়াল টিয়ার্স) চোখের শুষ্কতা ও অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। আপনার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত পণ্যটি বেছে নিতে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে যদি সমস্যাটি বারবার ফিরে আসে। স্ক্রিন ব্যবহারের মাঝে বিরতি নিন: নিয়মিত চোখের পলক ফেলুন এবং মোবাইল ফোন বা কম্পিউটার ব্যবহারের সময় মাঝে মাঝে বিরতি নিন, যা চোখের শুষ্কতা কমাতে সাহায্য করবে। ঘরের ভেতরের ধুলোবালি কমান: নিয়মিত ঘর পরিষ্কার করুন, তবে এমন পদ্ধতি অবলম্বন করুন যাতে জমে থাকা ধুলো বাতাসে ছড়িয়ে না পড়ে। কখন চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন? দূষণ কমে গেলে মাঝেমধ্যে হওয়া হালকা অস্বস্তি নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে। তবে, যদি সমস্যাটি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা ক্রমশ বাড়তে থাকে, তবে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। যদি আপনার চোখ ক্রমাগত লাল হয়ে থাকে, ব্যথা করে, আলোর প্রতি সংবেদনশীলতা দেখা দেয়, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় অথবা চোখ থেকে অস্বাভাবিক কিছু নিঃসরণ হয়, তবে অবশ্যই চোখ পরীক্ষা করান। এই লক্ষণগুলো এমন কোনো চোখের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে যার জন্য সাধারণ দূষণজনিত অস্বস্তির চেয়ে ভিন্ন চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। Download PhotoCard SHARES লাইফস্টাইল বিষয়: এই সময়ে চোখে জ্বালাপোড়া? যেভাবে দূর করবেন