একবার কিনলেই প্রতিটি উৎসবে ঘর সাজাতে কাজে দেবে যেসব জিনিস

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২৬

উৎসব হোক কিংবা বাড়িতে অতিথি আপ্যায়নের আয়োজনে ঘরটাকেও নতুন করে সাজিয়ে তুলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু ঘর সাজানো মানেই নতুন আসবাব কেনা বা প্রচুর টাকা খরচ করা নয়। বরং ছোটখাটো কিছু সাজসজ্জার উপকরণ বদলে দিলেই অন্দরমহলে আসতে পারে নতুনত্ব।

কুশন কভার, ফুলদানি, নকশাদার ট্রে কিংবা মৃদু আলোর ল্যাম্প-এমন কিছু জিনিস সারা বছরই কাজে লাগবে, আবার উৎসবের সময় ঘরের সৌন্দর্যও বাড়িয়ে দেবে। তাই আগে থেকেই বেছে রাখতে পারেন এমন কিছু সাজসজ্জার উপকরণ, যা ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি অতিথি আপ্যায়নেও কাজে আসবে।

ঘরের আলো, ফুল আর কুশনেই বদলে যাবে অন্দরসজ্জার চেহারা

ঘরের আলো, ফুল আর কুশনেই বদলে যাবে অন্দরসজ্জার চেহারা

শৌখিন বাতিদান ও এলইডি মোমবাতি

উৎসবের সাজে আলোর ভূমিকা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। বসার ঘরের কফি টেবিল, ডাইনিং টেবিল কিংবা ঘরের কোনও এক কোণে নকশাদার বাতিদান রাখলে সহজেই তৈরি হয় স্নিগ্ধ পরিবেশ। পিতল, কাচ, কাঠ কিংবা সিরামিকের বাতিদান ঘরের সাজে আভিজাত্য যোগ করতে পারে।

উৎসবের আবহ আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন আকারের মোমবাতি। তবে আগুনের ঝুঁকি এড়াতে চাইলে বেছে নিতে পারেন এলইডি মোমবাতি। এগুলো দেখতে সুন্দর, আবার বারবার ব্যবহারও করা যায়।

ফুলের সাজে বদলে দিন ঘরের চেহারা

ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে ফুলের আবেদন চিরকালীন। তাজা ফুলের সুবাস ও রং ঘরের পরিবেশকে সতেজ করে তোলে। মরসুম অনুযায়ী গোলাপ, রজনীগন্ধা কিংবা অন্যান্য ফুল দিয়ে সাজাতে পারেন বসার ঘর। সিরামিক বা কাচের ফুলদানিতে ফুলের সঙ্গে কয়েকটি সবুজ পাতা রাখলে সাজ আরও আকর্ষণীয় দেখাবে। ডাইনিং টেবিল, সেন্টার টেবিল কিংবা প্রবেশপথের পাশে ফুলদানি রাখা যেতে পারে। প্রতিদিন ফুল বদলানোর ঝামেলা এড়াতে চাইলে মানসম্মত কৃত্রিম ফুলও বেছে নিতে পারেন।

নকশাদার ট্রে ও পরিবেশনের বাসন

অতিথি আপ্যায়নের সময় পানীয়, মিষ্টি কিংবা স্ন্যাকস পরিবেশনের জন্য শৌখিন ট্রে বেশ কাজে আসে। কাঠ, ধাতু, কাচ কিংবা বেতের নকশাদার ট্রে ঘরের সাজের সঙ্গেও মানিয়ে যায়।

এর সঙ্গে রাখতে পারেন সুন্দর কাচের বয়াম, কাপ কিংবা ছোট পরিবেশনের বাটি। কফি টেবিলের ওপর ট্রেতে কয়েকটি ছোট সাজসজ্জার উপকরণ, সুগন্ধি মোমবাতি বা ফুলদানি রাখলেও সুন্দর দেখাবে। এমন নকশা বেছে নিন, যা উৎসবের পাশাপাশি প্রতিদিনের ব্যবহারেও মানানসই।

দেয়ালে নকশাদার ওয়াল প্লেট

দেয়াল সাজাতে সব সময় দামি ছবি বা বড় আয়না কেনার প্রয়োজন নেই। নকশাদার ওয়াল প্লেটও অন্দরসজ্জায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। ফুলেল নকশা, জ্যামিতিক নকশা কিংবা ঐতিহ্যবাহী মোটিফের প্লেট বসার ঘর বা ডাইনিংয়ের দেয়ালে সাজিয়ে রাখতে পারেন।

একই ধরনের দুই-তিনটি প্লেট একসঙ্গে সাজালে যেমন সুন্দর দেখায়, তেমনই বিভিন্ন আকার ও নকশার প্লেট মিলিয়েও তৈরি করা যায় আকর্ষণীয় বিন্যাস। তবে দেয়ালের রং ও ঘরের সামগ্রিক সাজের সঙ্গে মিলিয়ে প্লেট বেছে নেওয়া ভালো।

টেবিল ল্যাম্প ও মৃদু আলোর ব্যবস্থা

ঘরের সাজে বড় পরিবর্তন আনতে সব সময় নতুন আসবাব প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো আলোর বিন্যাস বদলালেই ঘরের আবহ পাল্টে যায়।

বসার ঘরের এক পাশে টেবিল ল্যাম্প, শোয়ার ঘরে মৃদু আলো কিংবা পর্দার পাশে ছোট এলইডি লাইট ব্যবহার করতে পারেন। উষ্ণ রঙের আলো ঘরে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে সাহায্য করে। এমন ল্যাম্প ও আলোকসজ্জা বেছে নিন, যা নির্দিষ্ট কোনও উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সারা বছরই ঘরের সাজের সঙ্গে মানিয়ে যাবে।

নকশাদার পাপোশ ও কুশন কভার

ঘরের প্রবেশপথে সুন্দর পাপোশ এবং সোফায় নতুন কুশন কভার-এই সামান্য পরিবর্তনেও অন্দরসজ্জায় নতুনত্ব আসে। দরজার সঙ্গে মানানসই রং ও নকশার পাপোশ বেছে নিন, যাতে সেটি উৎসবের পরেও নিয়মিত ব্যবহার করা যায়।

অন্যদিকে, সোফার কুশন কভারে উজ্জ্বল রং, ঐতিহ্যবাহী নকশা কিংবা সূক্ষ্ম কারুকাজ ঘরের সাজে উৎসবের ছোঁয়া আনতে পারে। প্রতি বছর নতুন কভার না কিনে কয়েক সেট কুশন কভার সংগ্রহে রাখলে প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে ব্যবহার করা যাবে।

উৎসবে ঘর সাজাতে বড়সড় পরিবর্তনের চেয়ে ছোটখাটো উপকরণের সঠিক ব্যবহারই বেশি কার্যকর। রং, আলো, ফুল ও নকশার সমন্বয়ে অল্প খরচেই ঘরকে করে তোলা যায় আকর্ষণীয়। এমন জিনিস বেছে নিন, যা উৎসবের দিনগুলোতে যেমন কাজে আসবে, তেমনই বছরের অন্য সময়েও ঘরের সৌন্দর্য বাড়াবে।