মাদকের টাকার জন্য বিক্রি করে দেওয়া সেই শিশু উদ্ধার, বাবাসহ আটক ৩ প্রকাশিত: ৪:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ গাইবান্ধায় মাদকের অর্থ জোগাড় করতে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া ১১ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুল মিয়াসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করে পুলিশ। এরআগে ১৫ সেপ্টেম্বর ‘টাকা না পেয়ে সন্তান নিয়ে উধাও মাদকাসক্ত বাবা’ শিরোনামে জাগো নিউজে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পুলিশ জানায়, প্রথমে শিশুটির বাবা হামিদুলকে সাদুল্লাপুর সার বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজনকে আটক করা হয়। রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে আটক করা হয় বাসের হেলপার মজিদকে। এরপর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকা থেকে মোরশেদাকে আটক করা হয়। সবশেষে মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে রোববার রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মা রুমানা আক্তারের দাবি, গত ১৭ জুলাই বিকেলে হামিদুল গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে আসেন। শিশু ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে যান। এরপর আর ফেরেননি। ঘটনার দুদিন পর হামিদুল ফোন করে জানান, ১০ হাজার টাকা দিলে মেয়েকে ফেরত দেওয়া হবে। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন। পরে জানা যায়, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল। সন্তান নিখোঁজ থাকার সময় মা রুমানা থানা ও আদালতের দ্বারস্থ হন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। আমার সন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে—কিছুই জানি না।’ পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুলের সঙ্গে রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মাদকের টাকার জন্য স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতন করতেন হামিদুল। সন্তান জন্মের পর নির্যাতন বেড়ে গেলে রুমানা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। আরও পড়ুন টাকা না পেয়ে সন্তান নিয়ে উধাও মাদকাসক্ত বাবা স্বজনদের অভিযোগ, মাদকের অর্থ জোগাড় করতেই হামিদুল নিজের কোলের সন্তানকে ব্যবহার করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তার মাদকাসক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিশুটির নানি রোশনা বেগম বলেন, তারা দিনমজুর ও দরিদ্র। হামিদুলের দাবি করা টাকা দেওয়ার সামর্থ্য তাদের ছিল না। নাতনিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার বলেন, ‘জাগো নিউজসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে শিশুটিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় শিশুটি দ্রুত উদ্ধারের জন্য কাজ করা শুরু করি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয়সহ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত সাপেক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হবে।’ আনোয়ার আল শামীম/এসআর/জেআইএম Download PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: বাবাসহ আটক ৩মাদকের টাকার জন্য বিক্রি করে দেওয়া সেই শিশু উদ্ধার