ঘনঘন নেইলপলিশ পরলে নখের সৌন্দর্যের আড়ালে যেসব ক্ষতি হতে পারে প্রকাশিত: ১২:০৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৬, ২০২৬ নখকে ঝকঝকে ও পরিপাটি দেখাতে নেইলপলিশের জুড়ি নেই। বিশেষ করে জেল নেল পলিশ ও নেইল এক্সটেনশন এখন ফ্যাশনপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। দীর্ঘস্থায়ী গ্লসি ফিনিশ, নানা রং ও ডিজাইনের কারণে মুহূর্তেই বদলে যায় হাতের পুরো লুক। কিন্তু সৌন্দর্যের এই অভ্যাসটি যদি খুব ঘনঘন করা হয়, তাহলে নখ ও আশপাশের ত্বকের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। সাধারণ নেইলপলিশ ব্যবহারে সবারই সমস্যা হবে, এমন নয়। তবে বারবার জেল ম্যানিকিউর, নেল এক্সটেনশন, অতিরিক্ত ফাইলিং বা শক্তভাবে পলিশ তুলে ফেলার অভ্যাসে নখ দুর্বল, পাতলা, শুষ্ক কিংবা সহজে ভেঙে যাওয়ার মতো হতে পারে। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি বলছে, বারবার জেল ম্যানিকিউরের ফলে নখ ভঙ্গুর, খসখসে বা ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। নখ শুকিয়ে ভঙ্গুর হয়ে যেতে পারে বারবার পলিশ করা, বিশেষ করে জেল পলিশ লাগানো ও তুলে ফেলার প্রক্রিয়ায় নখের ওপর চাপ পড়ে। অ্যাসিটোনে দীর্ঘ সময় ভেজানো, পলিশ ঘষে বা তুলে ফেলা এবং নখের ওপর অতিরিক্ত ফাইলিংয়ের কারণে নখের স্বাভাবিক স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে নখ পাতলা, শুষ্ক ও ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে। নখে সাদা দাগ বা রঙের পরিবর্তন বারবার ম্যানিকিউর, বিশেষ করে নখের ওপর বেশি ঘষাঘষি বা ফাইলিংয়ের পর নখের রং ও চেহারায় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে নখে সাদা দাগও দেখা যেতে পারে। কিউটিকল কেটে ফেললে বাড়তে পারে সংক্রমণের ঝুঁকি ম্যানিকিউরের সময় কিউটিকল খুব গভীরভাবে কাটা বা সরিয়ে ফেলার অভ্যাসও সমস্যার কারণ হতে পারে। কিউটিকল নখের চারপাশের ত্বককে জীবাণু থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে। সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যাকটেরিয়া বা অন্য জীবাণু প্রবেশ করে প্রদাহ কিংবা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। অ্যালার্জির সমস্যাও হতে পারে নেইল কসমেটিকসে থাকা কিছু উপাদান সংবেদনশীল মানুষের ত্বকে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে জেল ও কৃত্রিম নখে ব্যবহৃত কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শে নখের চারপাশে লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে। তাই নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের পর ত্বকে অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হলে সেটি বন্ধ করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কিছু রাসায়নিক নিয়ে কেন সতর্কতা নেল কেয়ার পণ্যে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উপাদান ব্যবহৃত হয়। এফডিএ–র তথ্য অনুযায়ী, নেল পলিশ ও অন্যান্য নেল কেয়ারে ফ্যাথালেটস, টলুইন, ফর্মালডিহাইড এবং কৃত্রিম নখের পণ্যে-এ মেথাক্রিলেট-এর মতো উপাদান রয়েছে। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ থেকে প্রসাধনীতে টিপিও নামের একটি উপাদান নিষিদ্ধ করেছে। এই সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উপাদানটির প্রজনন-সংক্রান্ত বিষাক্ততার শ্রেণিবিন্যাস উল্লেখ করা হয়েছে। মাঝে দিন নখকে বিরতি সবসময় নখে নেল পলিশ বা জেল পলিশ না রেখে মাঝেমধ্যে বিরতি দিন। বিশেষ করে নিয়মিত জেল ম্যানিকিউর করলে কিছুদিন নখকে পলিশমুক্ত রাখলে নখের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনমতো যত্ন নেওয়া সহজ হয়। পলিশ তুলুন সঠিকভাবে জেল বা অন্য কোনো নেইলপলিশ উঠে আসতে শুরু করলে সেটি নখ দিয়ে খুঁটে বা টেনে তুলে ফেলবেন না। এতে নখের ওপরের স্তরও উঠে যেতে পারে এবং নখ আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। তাই পলিশ তোলার সময় সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করুন এবং প্রয়োজন হলে পেশাদারের সাহায্য নিন। বেস কোট ব্যবহার করতে পারেন নেইলপলিশ লাগানোর আগে বেস কোট ব্যবহার করলে নখের ওপর একটি আলাদা স্তর তৈরি হয়। এতে নেইল পলিশের রং সরাসরি নখের সঙ্গে দীর্ঘসময় সংস্পর্শে থাকার বিষয়টি কিছুটা কমানো যেতে পারে। মানসম্মত পণ্য বেছে নিন নেইলপলিশ বা অন্যান্য নেল কেয়ার পণ্য কেনার সময় পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড বেছে নিন। সম্ভব হলে পণ্যের উপাদান তালিকা দেখে ব্যবহার করুন এবং নিজের ত্বক বা নখে আগে কোনো অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতার সমস্যা হয়ে থাকলে আরও সতর্ক থাকুন। নখ ও কিউটিকল পরিষ্কার রাখুন নখের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর স্বাভাবিক স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত নখ পরিষ্কার করুন এবং নখ ও কিউটিকলে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। ম্যানিকিউরের সময় কিউটিকল অতিরিক্ত কেটে বা ঘষে ফেলা এড়িয়ে চলাও জরুরি। নখ সুন্দর রাখার জন্য নেল পলিশ ব্যবহার করা যেতেই পারে। তবে ঘনঘন জেল ম্যানিকিউর, অতিরিক্ত ফাইলিং, কিউটিকল কাটা কিংবা ভুলভাবে পলিশ তোলার অভ্যাস এড়িয়ে চললে নখের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য অনেকটাই ভালো রাখা সম্ভব। Download PhotoCard SHARES লাইফস্টাইল বিষয়: ঘনঘন নেইলপলিশ পরলে নখের সৌন্দর্যের আড়ালে যেসব ক্ষতি হতে পারে