বাবার জন্য খাবার নিয়ে থানায় ছেলে, মারধরের অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় গ্রেফতার বাবাকে খাবার দিতে গিয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে টাকা দাবির পর মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মারধরে তার পা ভেঙে দেওয়ার হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানায় এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আরমান হোসেনের অভিযোগ, থানায় খাবার দিতে গেলে দারোগা রুহুল আমিন তার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় তাকে মারধর করে বাম পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আরমান হোসেন আড়াইহাজারের গহরদী এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একটি হত্যা মামলাকে কেন্দ্র করে আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলছিল। ওই মামলায় দেলোয়ারসহ কয়েকজন আসামি রয়েছেন। মামলার একপর্যায়ে উচ্চ আদালত থেকে আসামিদের একজন জামিন পান। পরে দেলোয়ার গ্রেফতার হলে তার স্বজনদের কাছে বিভিন্নভাবে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।

পরিবারের দাবি, দেলোয়ার গ্রেফতারের পর থেকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দারোগা রুহুল আমিন আসামির স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিন দফায় মোট ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয় বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

এরই মধ্যে গত শুক্রবার আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই দিন দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে তাকে খাবার দিতে আড়াইহাজার থানায় যান আনোয়ারের ছেলে আরমান। এসময় দারোগা রুহুল আমিন আবারো টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে থানার ভেতরে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মারধরের কারণে তার বাম পা ভেঙে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরমান হোসেন বলেন, থানায় টাকার জন্য আমাকে মেরে পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। পরে পুরো ঘটনা বলবো।

তবে এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমীন বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি আরমানকে পূর্ব থেকে দেখিনি আর চিনিও না। কে মারছে বা কারা মারছে আমার জানা নেই।

আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, এটা একটা মিথ্যা অভিযোগ। এখানে আরমান নামে যে ছেলেকে মারধরের কথা বলা হয়েছে তাকে মারধর করার কোনো কারণ নেই। রুহুল আমীন এই মামলার কিছু না। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এফএ