সড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি, চরম ঝুঁকিতে যানবাহন প্রকাশিত: ২:২৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কের মাঝে প্রায় অর্ধশত বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে সড়ক নির্মাণের কাজ। ফলে পথচারীদের কাছে বর্তমানে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে এ সড়কটি। পুরো দমে রাস্তাটি চালু হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। পার্শ্ববর্তী উপজেলার সঙ্গে সহজ যোগাযোগে কাঞ্চন-ডাঙ্গা সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সড়ক দিয়ে রূপগঞ্জের কাঞ্চন পৌরসভা ও ভোলাবো ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী নরসিংদীর পলাশ, ঘোড়াশালসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। পাঁচ কিলোমিটার সড়কটি সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ ফুট প্রশস্তকরণ ও নতুন করে নির্মাণ কাজ শুরুর উদ্যোগ নেয় সওজ। কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পায় সাগর ইনফো বিল্ডার্স লি. নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এদিকে সড়কটি প্রশস্তকরণ করে নতুন করে নির্মাণের ফলে সড়কে সাড়ে চার কিলোমিটারে শতাধিক পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি পড়েছে। এর মধ্যে ৪৬ টি বিদ্যুতের খুঁটি পড়েছে সড়কটির একেবারেই ভিতরে। সড়কের নির্মাণ কাজ শুরু সময় এ খুটিগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে ফেলার জন্য সওজ নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর বরাবর আবেদন করলে, কর্তৃপক্ষ খুঁটি সরাতে শর্ত সাপেক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য সওজকে জানান। কিন্তু সওজ কর্তৃপক্ষ সেই শর্ত না পূরণ করতে পারায় খুটিগুলো সড়কের মধ্যে রয়ে যায়। আর সেই খুটিগুলো পূর্বের অবস্থায় রেখেই পাঁচ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ বর্তমানে শেষ করে ফেলেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যানবাহন চলাচলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। খুঁটি এড়িয়ে চলতে গিয়ে চালকদের অনেক সময় সড়কের বিপরীত পাশে চলে যেতে হচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী ও চালকরা। তবে দ্রুত বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে ফেলা হবে বলে জানান পল্লী বিদ্যুৎ ও সওজ কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দা ডালিম মিয়া বলেন, সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। সড়কটি নির্মাণ করা হলেও খুঁটি না সরানোর কারণে এর সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না। দ্রুত খুঁটিগুলো অপসারণের দাবি জানান তিনি। উপজেলার তারাইল গ্রামের বাসিন্দা নূর আলম বলেন, সড়কের মাঝখানে বিদ্যুতের খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রাতে খুঁটিগুলো এড়িয়ে যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে চালকদের সমস্যায় পড়তে হয়। এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সাগর ইনফো বিল্ডার্স লি. এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবুল বাশার আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, খুঁটি অপসারণের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সমিতির নিজস্ব ঠিকাদারকে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে নয়টি খুঁটির কাজ শেষ হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে বাকি কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা করছেন তিনি। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহিম জাগো নিউজকে বলেন, খুঁটি অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখনো বাজেট পাওয়া যায়নি। তবে বাজেট পাওয়া মাত্রই পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অর্থ পরিশোধ করা হবে। এর মধ্যে খুঁটি অপসারণের কাজ শুরু করতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। নাজমুল হুদা/কেজে/জেআইএম Download PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: চরম ঝুঁকিতে যানবাহনসড়কের মাঝে বিদ্যুতের খুঁটি