রাজশাহীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যন্ত্র আছে, সেবা নেই প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬ রাজশাহীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালের দৌরাত্ম্য, চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জটলা, চিকিৎসক না হয়েও বাইরের লোকজনের চিকিৎসাসেবায় যুক্ত থাকার অভিযোগ এবং সরকারি ওষুধ না পাওয়ার মতো নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে কোনো কোনো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে, ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন থাকার পরও সেগুলো নিয়মিত ব্যবহার না করে রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। রাজশাহীর পুঠিয়া, চারঘাট, বাঘা ও দুর্গাপুরসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের ঘিরে একাধিক ব্যক্তির তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। বিজ্ঞাপন ‘প্রেমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি সেবাই চালু রয়েছে। তবে এক্স-রে মেশিনটি পুরোনো অ্যানালগ হওয়ায় নতুন দুটি মেশিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তার দাবি, হাসপাতালের নির্ধারিত সময়ে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা দেওয়া হয়। অফিস সময়ের বাইরে কেউ পরীক্ষা করাতে চাইলে জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া অনেক সময় পরদিন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।’ অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যক্তি হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক জনবল কাঠামোর বাইরে থেকেও দিনের পর দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান করছেন। কেউ নিজেদের শিক্ষানবিশ, কেউ স্বেচ্ছাসেবী আবার কেউ হাসপাতালের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেন বলে পরিচয় দিচ্ছেন। তবে তাদের কেউ কেউ রোগীর প্রেসার মাপা, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া, ড্রেসিং, সেলাই ও ক্ষত পরিষ্কারের মতো চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কাজও করছেন। রাজশাহীর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালদের তৎপরতা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের সময় সাংবাদিকের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে। হাসপাতাল চত্বরে থাকা কয়েকজন ব্যক্তির কর্মকাণ্ড ধারণের সময় চিকিৎসক বিধান কুমার ও মুন্তাজুল ইসলাম প্রতিবেদকের ওপর ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগীদের অভিযোগ ও অনিয়মের তথ্য সংগ্রহে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়টি কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে। বিজ্ঞাপন ‘রোগীর ড্রেসিংয়ের মতো কাজও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমেই করা উচিত। কারণ জীবাণুমুক্ত করার নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে রোগীর সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।’ শুধু পুঠিয়া নয়, রাজশাহীর অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের ভেতরে ও আশপাশে অবস্থান করা কিছু ব্যক্তি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কখনো কখনো হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার আগেই রোগীদের নির্দিষ্ট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা বিভ্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। হাসপাতালের চিকিৎসকদের কক্ষের সামনেও নিয়মিত ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জটলা দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অনেক সময় তাদের অপেক্ষা করতে হয়। অথচ একই সময়ে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের চিকিৎসকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেখা যায়। এতে চিকিৎসাসেবা গ্রহণের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের। ‘আমরা সরকারি হাসপাতালে আসি- কম টাকায় পরীক্ষা করার জন্য। কিন্তু আমাদের বলা হয় এখানে পরীক্ষা হয় না। বেশি টাকা দিয়ে বাইরে পরীক্ষা করতে হয়। অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই পরীক্ষার যন্ত্র রয়েছে। এছাড়াও মেডিকেলে নিয়মিত ওষুধও পাওয়া যায় না। তাহলে সরকারি হাসপাতাল থাকার কী প্রয়োজন?’ সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে চিকিৎসক না হয়েও কিছু ব্যক্তির রোগীদের চিকিৎসাসেবায় সম্পৃক্ত হওয়া নিয়ে। অনুসন্ধানের সময় এমন একজন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়, যিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মতো কাজ করছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ আগেও তিনি একজন রোগীর ড্রেসিং করাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিজ্ঞাপন তার কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, তিনি হাসপাতালের কোনো বেতনভুক্ত কর্মী নন; নিজের ইচ্ছায় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে হাসপাতালে আসেন এবং নিজের যাতায়াত খরচ নিজেই বহন করেন। প্রশ্ন হচ্ছে, কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় হাসপাতালে এলেই কি তিনি রোগীর চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত হতে পারেন? বিশেষ করে ড্রেসিং, সেলাই বা ক্ষত পরিষ্কারের মতো কাজের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, দায়িত্বের অনুমোদন এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া কেউ যুক্ত হলে রোগীর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত থাকে-তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিজ্ঞাপন চিকিৎসাসংশ্লিষ্টদের মতে, ড্রেসিং বা ক্ষত পরিষ্কারের ক্ষেত্রে যথাযথ জীবাণুমুক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। অনভিজ্ঞ ব্যক্তি এসব কাজ করলে রোগীর ক্ষতস্থানে সংক্রমণসহ নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে সরকারি হাসপাতালে কে রোগীর চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হতে পারবেন, সে বিষয়ে কঠোর নিয়ম থাকা প্রয়োজন। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে থাকা এক্স-রে, ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নিয়েও রোগীদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। রোগীদের অভিযোগ, কোনো কোনো হাসপাতালে এসব যন্ত্রপাতি থাকার পরও সেগুলো নষ্ট বা অচল থাকার কথা বলে বাইরে পরীক্ষা করাতে পাঠানো হয়। আবার কোথাও যন্ত্র সচল থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে পরীক্ষা করা হয় না। ফলে জরুরি রোগীদেরও অনেক সময় বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হচ্ছে। রোগীদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে গেলে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। দরিদ্র ও নিম্নআয়ের রোগীদের জন্য এই ব্যয় বহন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সরকারি হাসপাতালে যে পরীক্ষা কম খরচে বা বিনামূল্যে করার সুযোগ থাকার কথা, তা যদি বাইরে গিয়ে করতে হয়, তাহলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উদ্দেশ্যই অনেকাংশে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। বিজ্ঞাপন সরকারি ওষুধ পাওয়া নিয়েও রয়েছে অভিযোগ। রোগীদের দাবি, চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র হাতে পাওয়ার পর হাসপাতালের ওষুধ কাউন্টার থেকে সব ওষুধ পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বলা হয়। ফলে চিকিৎসার খরচ কমানোর আশায় সরকারি হাসপাতালে আসা রোগীদের একটি বড় অংশকে শেষ পর্যন্ত বেসরকারি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা নিতে আসা শহিদুল হক বলেন, আমরা সরকারি হাসপাতালে আসি- কম টাকায় পরীক্ষা করার জন্য। কিন্তু আমাদের বলা হয় এখানে পরীক্ষা হয় না। বেশি টাকা দিয়ে বাইরে পরীক্ষা করতে হয়। অথচ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই পরীক্ষার যন্ত্র রয়েছে। এছাড়াও মেডিকেলে নিয়মিত ওষুধও পাওয়া যায় না। তাহলে সরকারি হাসপাতাল থাকার কী প্রয়োজন? সেবা নিতে আসা আরেক রোগী আবুল কালাম বলেন, হাসপাতালগুলোতে দালালের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এছাড়াও ওষুধ কোম্পানির লোকজন অনেক দেখা যায়। যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও আমাদের সেবা দেওয়া হয় না। বিজ্ঞাপন সেবা নিতে আসা আয়েশা বেগম বলেন, এসব হাসপাতাল আর সরকারি নেই। সরকারি হাসপাতালে আসলেও টাকা দিয়ে ওষুধ-বড়ি কিনতে হয়। এছাড়াও পরীক্ষা তো করানো যায় না। রোগের সব পরীক্ষা বাইরে করতে হলে সরকারি হাসপাতালের কী প্রয়োজন? এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চিকিৎসক বলেন, আমাদের সহযোগিতা করার জন্য এক-দুইজন লোক থাকে। তারা আমাদের প্রেসার মাপা, ওজন মাপা এবং দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করে থাকেন। এর বিনিময়ে আমরা তাদের পারিশ্রমিক দিয়ে থাকি। বিজ্ঞাপন তবে সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিস্থিতি এক নয় বলে দাবি করেছেন গোদাগাড়ীর প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ হাসানুল জাহিদ। তিনি জানান, হাসপাতালের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২৮টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা এসব ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হয়। হাসপাতালের ভেতরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি বা দালাল যাতে রোগীদের হয়রানি করতে না পারে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ নজর রাখছে। ডা. হাসানুল জাহিদ জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালটিতে দালালের উপস্থিতি পেয়েছিলেন। তবে বর্তমানে সার্বক্ষণিক নজরদারির কারণে সেখানে দালালের দৌরাত্ম্য নেই। হাসপাতালের বাইরে থেকে কাউকে কোনো সরকারি বা অন্য কোনো ব্যবস্থায় রাখা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। আউটসোর্সিং কর্মীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আগের ৯ জন আউটসোর্সিং কর্মীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের আর হাসপাতালে রাখা হয়নি। নতুন করে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং বিষয়টি টেন্ডার পর্যায়ে রয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসক না হয়েও কেউ রোগীর চিকিৎসাসেবা দিলে তা ঝুঁকিপূর্ণ বলেও স্বীকার করেন ডা. হাসানুল জাহিদ। তার মতে, মেডিকেল সায়েন্স নির্দিষ্ট নিয়ম ও প্রটোকলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। বিশেষ করে জরুরি বিভাগে চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ছাড়া অন্য কারও চিকিৎসাসেবায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। আরও পড়ুন ৪ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি ‘ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী ট্রমা সেন্টার’ তিনি বলেন, রোগীর ড্রেসিংয়ের মতো কাজও প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমেই করা উচিত। কারণ জীবাণুমুক্ত করার নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে রোগীর সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এদিকে চিকিৎসক সংকটও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজশাহীর নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৮০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৩৫ জন। জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর মোট শয্যা সংখ্যা ৪৫০টি। ফলে অনুমোদিত পদের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় অনেক হাসপাতালকেই সীমিত জনবল দিয়ে সেবা চালাতে হচ্ছে। আরও পড়ুন লাইসেন্স নেই-নম্বরপ্লেটেও কারসাজি, অটোরিকশায় নাজেহাল রাজশাহী প্রেমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও একই অবস্থা। সেখানে ৩০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে ২১ জন কর্মরত থাকলেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সংযুক্তির কারণে কার্যত ১৫ জন চিকিৎসক দিয়ে সেবা চালাতে হচ্ছে বলে জানান ডা. হাসানুল জাহিদ। তার মতে, জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে প্রেমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসতেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি হাসপাতালের ওপর মানুষের আস্থা বাড়ার ইঙ্গিত দিলেও সীমিত জনবল দিয়ে এত রোগীকে মানসম্মত সেবা দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ বলে স্বীকার করেন তিনি। আরও পড়ুন ‘ব্রিজের নিচে সালমা আসছে, আমায় ডাকতেছে’ পা হারানো রায়হানের প্রলাপ রোগীর চাপ মোকাবিলায় হাসপাতালটিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা। তার দাবি, রাজশাহী জেলার মধ্যে প্রেমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফিজিওথেরাপি সেবা চালু হয়েছে। চলতি অর্থবছরে ডেন্টাল এক্স-রে মেশিন সংগ্রহের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া গোদাগাড়ীতে ব্লাড ব্যাংক না থাকায় রক্ত সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালে জেনারেল সার্জারি, ইএনটি ও গাইনি বিভাগের রুটিন অপারেশন হলেও রক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রয়োজনের সময় বাইরে থেকে রক্ত সংগ্রহ করতে হয়। তাই ব্লাড ব্যাংক স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি। এক্স-রে, ইসিজি ও আল্ট্রাসনোগ্রাম নিয়ে রোগীদের অভিযোগের বিষয়ে ডা. হাসানুল জাহিদ বলেন, প্রেমতলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনটি সেবাই চালু রয়েছে। তবে এক্স-রে মেশিনটি পুরোনো অ্যানালগ হওয়ায় নতুন দুটি মেশিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তার দাবি, হাসপাতালের নির্ধারিত সময়ে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার সেবা দেওয়া হয়। অফিস সময়ের বাইরে কেউ পরীক্ষা করাতে চাইলে জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া অনেক সময় পরদিন পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দালালের দৌরাত্ম্য বন্ধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. হাবীবুর রহমান বলেন, দালালের বিষয়ে আমি কী বলব-আমি তো বলব এসব নেই। এনএইচআর/জেআইএম Download PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: রাজশাহীর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে যন্ত্র আছেসেবা নেই