মাল্টায় চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার, বাংলাদেশিসহ ৫ জন কারাগারে প্রকাশিত: ৫:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২৬ ইউরোপে পাড়ি জমাতে এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রবেশপথ মাল্টা। তবে মানুষের এ ইউরোপ যাত্রার সুযোগ নিয়ে সক্রিয় রয়েছে মানবপাচারকারী ও অর্থ পাচারকারীরাও। এবার সে অভিযোগে এক বাংলাদেশিসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে মাল্টার কর্তৃপক্ষ। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ৪০ বছর বয়সী নাজমুল ইশতিয়াককে ম্যাজিস্ট্রেট অ্যাবিগেইল ক্রিটিয়েনের আদালতে হাজির করা হয়। তিনি মাল্টার মেলিয়েহা এলাকার বাসিন্দা এবং বর্তমানে বন্ধ থাকা পিংক গার্লিক রেস্তোরাঁর মালিক। আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি। নাজমুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, কাজ দেওয়ার কথা বলে শ্রমিকদের মাল্টায় এনে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো এবং পরে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আদালতে নাজমুল ইশতিয়াকের পক্ষ থেকে জামিনের আবেদন করা হয়। তবে, তিনি সাক্ষীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেন এমন আশঙ্কায় আদালত জামিনের আবেদন নাকচ করেন। ফলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাকে। পুলিশের তদন্ত শুরু হয় এক বাংলাদেশি নাগরিকের অভিযোগের পর। ওই ব্যক্তি পুলিশকে জানান, বৈধ চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথা বলে নাজমুল ইশতিয়াক মাল্টায় নিয়ে আসেন তাকে। তবে, মাল্টায় পৌঁছানোর পর তাকে ইশতিয়াকের বন্ধ হয়ে যাওয়া রেস্তোরাঁয় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশের তদন্তে জানা যায়, বিষয়টি গোপন রাখতে ওই শ্রমিককে কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেওয়া হয়েছিল। পরে, কাগজপত্রগুলো দেখে তিনি জানতে পারেন, সেখানে লেখা রয়েছে যে তিনি তিন মাস বিনা বেতনে ছুটিতে থাকতে সম্মত হয়েছেন। ওই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে আরও চারজনের সন্ধান পায় পুলিশ। তারাও একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান। মাল্টায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে নিয়ে আসার পর তাদের দিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। পুলিশ জানায়, নিজেদের কাজের পরিস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানালে শ্রমিকদের মাল্টা থেকে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত এখনো চলছে। আরও কয়েকজন সম্ভাব্য ভুক্তভোগী এরই মধ্যে মাল্টা ছেড়ে চলে গিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। প্রাথমিক অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর ইশতিয়াককে তার রেস্তোরাঁ থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা জানালে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে, গত বুধবার হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর সরাসরি আদালতে হাজির করা হয় তাকে। এদিকে, আদালতে জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ। জামিনে মুক্তি পেলে ইশতিয়াক সাক্ষীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে বা তাদের হুমকি দিতে পারেন বলে আশঙ্কা তাদের । পরে, অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনা করেও তাকে জামিন না দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দেয় রাষ্ট্রপক্ষ। Download PhotoCard SHARES সারা বাংলা বিষয়: বাংলাদেশিসহ ৫ জন কারাগারেমাল্টায় চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার