তিন দশকের বেশি সময় পর সোমালিয়ায় জাতিসংঘের রাজনৈতিক কার্যক্রমের সমাপ্তি

প্রকাশিত: ৫:১৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
সোমালিয়ায় জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশনের কার্যক্রম শনিবার শেষ হয়েছে। দুই বছরের রূপান্তরকাল শেষে এই মিশন বন্ধের মধ্য দিয়ে পূর্ব আফ্রিকার দেশটিতে জাতিসংঘের শান্তি প্রতিষ্ঠার তিন দশকেরও বেশি সময়ের কার্যক্রমের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।
২০১৩ সালে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সোমালিয়ায় জাতিসংঘের রাজনৈতিক মিশন (ইউএনএসওএম) প্রতিষ্ঠা করে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর দেশটিতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন জোরদার এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে সোমালি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। ১৯৯৫ সালে ‘ইউএন পলিটিক্যাল অফিস ফর সোমালিয়া’ নামে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছিল।

২০২৪ সালের মে মাসে সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদ জাতিসংঘকে মিশনটি বন্ধের অনুরোধ জানান।

প্রথমে ওই বছরের অক্টোবরে মিশনের মেয়াদ শেষ করার প্রস্তাব দিলেও পরে তিনি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দুই বছরের রূপান্তরকাল চান। এই সময় মিশনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘সোমালিয়ায় জাতিসংঘের ট্রানজিশনাল অ্যাসিস্ট্যান্স মিশন’ (ইউএনটিএমআইএস)।জাতিসংঘের মহাসচিবের সোমালিয়াবিষয়ক উপবিশেষ প্রতিনিধি ও ইউএনটিএমআইএসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান রাইসেডন জেনেঙ্গা এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আজ জাতিসংঘ ও সোমালিয়ার অংশীদারত্বের সমাপ্তি নয়, বরং একটি অধ্যায়ের শেষ এবং নতুন অধ্যায়ের শুরু।’

তিনি আরো বলেন, দেশটির সামনে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

তবে সোমালিয়ার পুনরুদ্ধারে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার শুরুর সময়ের তুলনায় দেশটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। সেই অগ্রগতির পরিপ্রেক্ষিতেই মিশনটি বন্ধ করা হয়েছে। মিশনের দায়িত্বগুলো এখন সোমালিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জাতিসংঘের দেশীয় দলের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।এমন এক সময়ে মিশনটি বন্ধ হলো, যখন আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাব এখনো মধ্য সোমালিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রায় দুই দশক ধরে গোষ্ঠীটি সোমালি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছে।

তাদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্তর্জাতিক সামরিক অভিযান চললেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।আল-শাবাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমে যাওয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ রসদ সরবরাহ মিশনের জন্য অর্থায়ন পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার পর সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এদিকে দেশটিতে নিরাপত্তাহীনতা ও রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেই আগামী মে মাসে সংসদীয় ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। চলমান পরিস্থিতি নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়াকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।