শিশুর হামসহ ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে নিউমোনিয়া, কখন সতর্ক হবেন?

প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ৩১, ২০২৬
শিশুদের নিউমোনিয়া এখনো অসুস্থতা ও মৃত্যুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিশেষ করে হামসহ বিভিন্ন ভাইরাসের সংক্রমণের পর কিছু শিশুর ফুসফুসে জটিলতা তৈরি হয়ে নিউমোনিয়া হতে পারে।

তাই ভাইরাল জ্বরকে সবসময় সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করা ঠিক নয়। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দিতে পারে। হাম নিজেই নিউমোনিয়া সৃষ্টি করতে পারে।
আবার ভাইরাসের সংক্রমণের পর ব্যাকটেরিয়াজনিত দ্বিতীয়িক সংক্রমণ হলেও নিউমোনিয়া হতে পারে।
খুব ছোট শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু, যাদের টিকাদান অসম্পূর্ণ এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি। 

কোন লক্ষণে নিউমোনিয়া সন্দেহ করবেন?

জ্বর ও কাশির পাশাপাশি যদি শিশুর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, অস্বাভাবিক দ্রুত শ্বাস নেয়, শ্বাস নেওয়ার সময় বুকের নিচের অংশ ভেতরের দিকে দেবে যায়, নাক ফুলিয়ে শ্বাস নেয়, খেতে বা পান করতে না পারে, অতিরিক্ত দুর্বল বা ঘুমঘুম হয়ে যায় অথবা ঠোঁট নীলচে হয়ে আসে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষ করে শিশুর শ্বাসকষ্টকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।

 

সব ভাইরাল নিউমোনিয়ায় কি অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন?

না। ভাইরাসজনিত সংক্রমণে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। তবে ভাইরাসের পাশাপাশি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক দিতে পারেন। তাই শিশুকে নিজের সিদ্ধান্তে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া উচিত নয়।
চিকিৎসা নির্ভর করে শিশুর বয়স, শ্বাস-প্রশ্বাসের অবস্থা, অক্সিজেনের মাত্রা, পানিশূন্যতা, খাওয়ার সক্ষমতা এবং সংক্রমণের তীব্রতার ওপর।

গুরুতর হলে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হতে পারে। 

কখন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

হাম বা অন্য ভাইরাসের সংক্রমণের পর কাশি দীর্ঘস্থায়ী হলে, বারবার শ্বাসকষ্ট হলে, বুকে ব্যথা হলে, নিউমোনিয়া বারবার হলে, অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে অথবা চিকিৎসার পরও শিশুর শ্বাসকষ্ট ও কাশি না কমলে বক্ষব্যাধি মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শিশু-কিশোরদের ফুসফুসের সংক্রমণ ও শ্বাসকষ্টের কারণ নির্ণয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য বক্ষব্যাধি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (Chest Medicine/Pulmonology Specialist) রোগীকে মূল্যায়ন করতে পারেন। প্রয়োজনে বুকের এক্স-রে, অক্সিজেন স্যাচুরেশনসহ অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।

প্রতিরোধই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

হামসহ টিকাদানযোগ্য রোগ থেকে শিশুদের সুরক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো টিকা দেওয়া। শিশুর টিকাদান সূচি সম্পূর্ণ হয়েছে কি না অভিভাবকদের নিশ্চিত করা উচিত।

এ ছাড়া অসুস্থ শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে কিছুদিন আলাদা রাখা, হাত পরিষ্কার রাখা, ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা করা এবং অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা সংক্রমণের বিস্তার কমাতে সাহায্য করে।

শিশুর জ্বর, কাশি বা সর্দি হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। কিন্তু শ্বাসকষ্ট, দ্রুত শ্বাস, বুক দেবে যাওয়া, অক্সিজেন কমে যাওয়া, খেতে না পারা বা শিশুর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
সময়মতো সঠিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে বক্ষব্যাধি মেডিসিন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ শিশুকে গুরুতর ফুসফুসের জটিলতা থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

লেখক : সহকারী অধ্যাপক ( বক্ষব্যাধি মেডিসিন ও এলার্জি, স্লিপ এপনিয়া বিশেষজ্ঞ )
চেম্বার : আলোক হেলথকেয়ার, কচুক্ষেত শাখা, মিরপুর ১৪
হটলাইন : ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯