‘অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি আত্মমূল্যায়নের তাগিদ’

প্রকাশিত: ১১:০০ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬
বাস্তবায়িত প্রকল্পের অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে অর্জিত সাফল্য কীভাবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টেকসই করা যায়, সে বিষয়ে আত্মমূল্যায়নের তাগিদ দিয়েছেন বক্তারা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ মিলনায়তনে ‘পাথওয়েজ টু প্রসপারিটি ফর এক্সট্রিমলি পুওর-ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (পিপিইপিপি-ইউ)’ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

 

পিকেএসএফের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক। এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হেড অব ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ইন বাংলাদেশ মাইকেল ক্রেজা।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নাজমা মোবারেক বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন কেবল একক কোনো অর্জন নয়, এর সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, আর্থিক সেবা, সামাজিক সুরক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত গভীরভাবে সম্পর্কিত। এই বহুমুখী বাস্তবতাকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা ধরনের সমন্বিত ও ধারাবাহিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে চর, উপকূলীয় অঞ্চল এবং বিভিন্ন দুর্গম এলাকা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই এসব ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রান্তিক পরিবারগুলোকে কেবল সাময়িক সহায়তা নয়, বরং তাদের জীবন ও জীবিকাকে জলবায়ু সহনশীল করে গড়ে তুলতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

 

অর্থ সচিব বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের মাধ্যমে নারীদের শুধু সুবিধাভোগী হিসেবে নয়, বরং সফল উদ্যোক্তা, আয়বর্ধনকারী এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবে গড়ে তোলার পথ সুগম করা হয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারের পঞ্চবার্ষিক কৌশলগত কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয় অর্থনীতি সচল করা, কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোগের সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রগুলো প্রসারিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাসে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগীদের বহুমুখী কার্যক্রম প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। বিশেষ করে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও নীতিমালায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি মন্তব্য করেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি, নারী ক্ষমতায়ন, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন একে অপরের পরিপূরক।

বাস্তবায়িত প্রকল্পের অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পে অর্জিত সাফল্য কীভাবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও টেকসই করা যায়, সে বিষয়ে আত্মমূল্যায়নের তাগিদ দেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতিনিধি মাইকেল ক্রেজা।

তিনি বলেন, এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত। কেবল আমাদের অর্জিত সাফল্য উদযাপনের সময় নয়, বরং অর্জিত শিক্ষা নিয়ে প্রতিফলনের এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কীভাবে এসব অর্জন টিকিয়ে রাখা যায় এবং তার ওপর ভিত্তি করে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, তা নিয়ে ভাবার সময়।

দারিদ্র্য বিমোচনে ইইউর প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দারিদ্র্য বিমোচনের প্রতিশ্রুতি তাদের উন্নয়ন সহযোগিতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের চুক্তি উন্নয়নশীল দেশগুলোর টেকসই অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নে উৎসাহিত করার আহ্বান জানায়, এর মূল লক্ষ্য দারিদ্র্য দূরীকরণ।

বাংলাদেশে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চরম দারিদ্র্য ও ঝুঁকিপূর্ণতা বহু মানুষের জন্য এখনও বাস্তব সমস্যা, বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও দুর্গম অঞ্চলগুলোতে। এই প্রেক্ষাপটে পিপিইপিপি প্রকল্পের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখানেই পিপিইপিপি প্রকল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

তিনি বলেন, এই প্রকল্প প্রায় দুই লাখ ১৫ হাজার চরম দরিদ্র পরিবারের কাছে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার প্রায় ৮ লাখ ৬০ হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছে। এ প্রকল্পে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ২৩ মিলিয়ন ইউরো অনুদান সহায়তা দিয়েছে।