ময়মনসিংহে দুর্গাপূজা মণ্ডপে মণ্ডপে রং লেগেছে প্রতিমায় প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২৬ হাতে বাকি মাত্র চারটি দিন। চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ হিসেবে প্রতিমার শরীরে চলছে রং-তুলির টান। কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমায় রঙের কাজও শেষ, কোথাও চলমান। এ অবস্থায় যেন দম ফেলারও সময় নেই শিল্পী-কারিগরদের। হাতে যে কয়দিন রয়েছে, এর মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে সব কাজ। এদিকে, মণ্ডপে যখন চলছে প্রতিমার কাজ, তখন মন্দিরের বাইরে সাজসজ্জার প্রস্তুতি। কোথাও সীমানাপ্রাচীর নিমাণ ও মন্দির প্রাঙ্গণে নতুন রঙ লাগানো; কোথাও চলছে তোরণ ও মঞ্চ নির্মাণের কাজ। রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ নগরের দুর্গাবাড়ি মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মন্দিরে দেয়াল ও পিলারে রং করছেন মিস্ত্রিরা। সড়কে দেখা যায় তোরণ নির্মাণের প্রস্তুতি। তবে প্রতিমায় রং দেওয়ার কাজ চোখে না পরায় কিছুটা বিস্ময় জাগে। পরে মন্দির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রেম বাসফোর জানান, সারারাত জেগে প্রতিমায় রং করার কাজ করেছেন শিল্পীরা। এ কারণে সকালে তারা একটু বেলা করেই জাগবেন। তবে মন্দিরের চারপাশে দেয়ালে নতুন করে রং করার কাজ করছেন অন্য একদল রংমিস্ত্রি। তারা জানান, দুই দিনের মধ্যেই পুরো মন্দির নতুন রঙে সাজাতে হবে। দারুন ব্যস্ত তারা। দুর্গাবাড়ি মন্দিরের পেছনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অনেকগুলো প্রতিমা একসঙ্গে রাখা। কোনো কোনটিতে খুব অল্প রং করা হলেও অধিকাংশ প্রতিমায় এখনও হয়নি রংয়ের কাজ। এমনকি কোনো কোনো প্রতিমার এখনও নির্মাণকাজই শেষ হয়নি। প্রতিমা শিল্পী গণেশ পালের ভাষ্য, এ প্রতিমাগুলো দুর্গাবাড়ি মন্দিরের নয়। এগুলো ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় যাবে। এক মাস ধরে তারা টানা কাজ করছেন। জেলার অনেক মন্দিরের প্রতিমার কাজ পেয়েছেন তারা। এগুলো পূজা শুরুর আগেই পৌঁছে দিতে হবে। কাজেই রাত-দিন এক করে কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করছেন সময়মতো পৌঁছে দিতে পারবেন। প্রাচীন জেলা ময়মনসিংহে প্রতিবছর উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে দুর্গাপূজা। পূজার আগে থেকেই অধীর আগ্রহ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শুরু করেন দিন গণনা। চলে কেনাটাকাসহ নানা প্রস্তুতি। ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক অনিমা দেবনাথ বলেন, ‘দুর্গাপূজা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। আমরা অনেক দিন আগে থেকেই এ উৎসবের জন্য অপেক্ষায় থাকি। মন্দিরের প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিবারেও চলে নানা প্রস্তুতি। বছরের এ সময়টা আমাদের কাছে খুবই কাঙ্খিত।’ ময়মনসিংহ নগরের আরো একাধিক মন্দিরেও দেখা যায় শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা প্রস্তুতের পাশাপাশি চলছে তোরণ নির্মাণ, সাজসজ্জা ও মঞ্চ নির্মাণের কাজ। এসব কাজে শ্রমিকদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পূজারীরাও। দশভূজা দেবী দুর্গাকে জীবন্ত রূপ দিতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৮০৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব হবে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ নগরেই ৯০টি মন্দিরে দুর্গাপূজা হবে। এরই মধ্যে জেলা ও প্রত্যেক উপজেলায় প্রস্তুতি সভা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুতিসভা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা বলেন, দুর্গাপূজার সব প্রস্তুতি চলছে। শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। আশা করছি এবার উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা হবে। প্রশাসন ও পুলিশও দুর্গাপূজা উৎসবমুখর করে তুলতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রস্তুতি নিয়েছে। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি রয়েছে পুলিশের। SHARES সারা বাংলা বিষয়: ময়মনসিংহে দুর্গাপূজা মণ্ডপে মণ্ডপে রং লেগেছে প্রতিমায়ময়মনসিংহে দুর্গাপূজা মণ্ডপে মণ্ডপে রং লেগেছে প্রতিমায়
কোনো কোনো মণ্ডপে প্রতিমায় রঙের কাজও শেষ, কোথাও চলমান। এ অবস্থায় যেন দম ফেলারও সময় নেই শিল্পী-কারিগরদের। হাতে যে কয়দিন রয়েছে, এর মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে সব কাজ। এদিকে, মণ্ডপে যখন চলছে প্রতিমার কাজ, তখন মন্দিরের বাইরে সাজসজ্জার প্রস্তুতি।
কোথাও সীমানাপ্রাচীর নিমাণ ও মন্দির প্রাঙ্গণে নতুন রঙ লাগানো; কোথাও চলছে তোরণ ও মঞ্চ নির্মাণের কাজ। রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ নগরের দুর্গাবাড়ি মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মন্দিরে দেয়াল ও পিলারে রং করছেন মিস্ত্রিরা। সড়কে দেখা যায় তোরণ নির্মাণের প্রস্তুতি। তবে প্রতিমায় রং দেওয়ার কাজ চোখে না পরায় কিছুটা বিস্ময় জাগে।
পরে মন্দির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা প্রেম বাসফোর জানান, সারারাত জেগে প্রতিমায় রং করার কাজ করেছেন শিল্পীরা। এ কারণে সকালে তারা একটু বেলা করেই জাগবেন। তবে মন্দিরের চারপাশে দেয়ালে নতুন করে রং করার কাজ করছেন অন্য একদল রংমিস্ত্রি। তারা জানান, দুই দিনের মধ্যেই পুরো মন্দির নতুন রঙে সাজাতে হবে। দারুন ব্যস্ত তারা।
দুর্গাবাড়ি মন্দিরের পেছনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে অনেকগুলো প্রতিমা একসঙ্গে রাখা। কোনো কোনটিতে খুব অল্প রং করা হলেও অধিকাংশ প্রতিমায় এখনও হয়নি রংয়ের কাজ। এমনকি কোনো কোনো প্রতিমার এখনও নির্মাণকাজই শেষ হয়নি। প্রতিমা শিল্পী গণেশ পালের ভাষ্য, এ প্রতিমাগুলো দুর্গাবাড়ি মন্দিরের নয়। এগুলো ময়মনসিংহের বিভিন্ন উপজেলায় যাবে। এক মাস ধরে তারা টানা কাজ করছেন। জেলার অনেক মন্দিরের প্রতিমার কাজ পেয়েছেন তারা। এগুলো পূজা শুরুর আগেই পৌঁছে দিতে হবে। কাজেই রাত-দিন এক করে কাজ করে যাচ্ছেন। আশা করছেন সময়মতো পৌঁছে দিতে পারবেন। প্রাচীন জেলা ময়মনসিংহে প্রতিবছর উৎসবের আমেজ নিয়ে আসে দুর্গাপূজা। পূজার আগে থেকেই অধীর আগ্রহ নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শুরু করেন দিন গণনা। চলে কেনাটাকাসহ নানা প্রস্তুতি। ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক অনিমা দেবনাথ বলেন, ‘দুর্গাপূজা আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। আমরা অনেক দিন আগে থেকেই এ উৎসবের জন্য অপেক্ষায় থাকি। মন্দিরের প্রস্তুতির পাশাপাশি পরিবারেও চলে নানা প্রস্তুতি। বছরের এ সময়টা আমাদের কাছে খুবই কাঙ্খিত।’ ময়মনসিংহ নগরের আরো একাধিক মন্দিরেও দেখা যায় শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি। প্রতিমা প্রস্তুতের পাশাপাশি চলছে তোরণ নির্মাণ, সাজসজ্জা ও মঞ্চ নির্মাণের কাজ। এসব কাজে শ্রমিকদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পূজারীরাও। দশভূজা দেবী দুর্গাকে জীবন্ত রূপ দিতে নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। ময়মনসিংহ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৮০৬টি মণ্ডপে দুর্গোৎসব হবে। এর মধ্যে ময়মনসিংহ নগরেই ৯০টি মন্দিরে দুর্গাপূজা হবে। এরই মধ্যে জেলা ও প্রত্যেক উপজেলায় প্রস্তুতি সভা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুতিসভা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছে। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শংকর সাহা বলেন, দুর্গাপূজার সব প্রস্তুতি চলছে। শেষ সময়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে। আশা করছি এবার উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা হবে। প্রশাসন ও পুলিশও দুর্গাপূজা উৎসবমুখর করে তুলতে নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রস্তুতি নিয়েছে। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব প্রস্তুতি রয়েছে পুলিশের।