চায়ের কাপের শেষ চুমুকটা কেন রেখে দেই আমরা?

প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

চা পান শেষ, কাপও প্রায় খালি; তবুও এক চুমুক পড়ে আছে কাপের তলায়। এমন দৃশ্য অনেকের কাছেই পরিচিত। অনেকেই শেষটুকু আর পান করেন না, কেউ কেউ আবার কাপ নামিয়ে রেখে দেন। কেন এমন হয়?

প্রথমেই একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার- ‘চায়ের শেষ চুমুক ইচ্ছা করে রেখে দেওয়া’ নিয়ে সরাসরি কোনো প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা বা বড় ধরনের কোনো গবেষণা পাওয়া যায়নি। তাই এটিকে কোনো নির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের লক্ষণ হিসেবে দাবি করা ঠিক হবে না।

তবে মানুষ কীভাবে পানীয় গ্রহণ করে এবং চা পান করার অভিজ্ঞতা কীভাবে বদলায়- এসব নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

শেষ চুমুকের স্বাদ কি আলাদা?

চায়ের স্বাদ ও ঘ্রাণ শুধু চায়ের ওপর নির্ভর করে না; বরং যে পাত্রে চা পরিবেশন করা হচ্ছে সেটিও অনুভূতিতে বা স্বাদে প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৪ সালে ফ্রন্টায়ার্স ইন সাইকোলজি (Frontiers in Psychology)-তে প্রকাশিত একটি গবেষণায় ১০২ জন অংশগ্রহণকারীকে বিভিন্ন আকৃতির কাপ থেকে চা পান করানো হয়।

ওই গবেষণায় দেখা যায়, কাপের প্রস্থ, উচ্চতা, কিনারার পুরুত্ব ও পৃষ্ঠের মসৃণতা চায়ের স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ, কাপের আকৃতি বদলালে একই চায়ের অভিজ্ঞতাও বদলে যেতে পারে। তবে মানুষ চায়ের শেষ চুমুকটা কেন রেখে দেন, তার উত্তর মেলেনি এই গবেষণায়।

কাপ খালি হওয়ার আগেই থেমে যাওয়ার কারণ কী?

চায়ের শেষ চুমুকটা রেখে দেওয়ার পেছনে কয়েকটি সাধারণ ব্যাখ্যা থাকতে পারে। যেমন: চা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, শেষটুকুর স্বাদ বা ঘনত্ব পছন্দ না হওয়া, পিপাসা মিটে যাওয়া কিংবা কথাবার্তায় মন চলে যাওয়া। কিন্তু এগুলোকে চায়ের শেষ চুমুক রেখে দেওয়ার বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত কারণ বলা যাবে না।

আবার লাইফস্টাইল ভিত্তিক অনেক জার্নালে চায়ের শেষ চুমুক রেখে দেওয়ার পেছনে কিছু কারণের কথা বলা হয়েছে। যেমন-

তলানি ও অপদ্রব্য

কাপের নিচে চা-পাতা বা লিকারের গুঁড়ো, চিনির অদ্রবণীয় অংশ কিংবা দুধ চায়ের সর ও কণা জমে থাকে। শেষের এই অংশটুকু পান করলে মুখে অস্বস্তিকর দানা বা তলানি লাগতে পারে। সে কারণে অনেকে চা একেবারে শেষ না করে কাপের তলানির অংশটুকু রেখে দেন।

পুরোনো অভ্যাস বা ঐতিহ্য

আগেকার দিনে যখন খোলা চা-পাতা দিয়ে চা তৈরি করা হতো, তখন কাপের তলায় পাতা জমে থাকার ভয়ে শেষ অংশটুকু খাওয়া হতো না। এই অভ্যাসটি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চলে আসছে।

স্বাদের তারতম্য

চায়ের কাপের একদম নিচের অংশে শর্করার পরিমাণ বা কড়া ভাব বেশি থাকে, যা অনেকের কাছে তেতো বা অতিরিক্ত মিষ্টি মনে হয়।

স্বাস্থ্যগত বা মানসিক অস্বস্তি: তলানির চায়ে ব্যাকটেরিয়া বা তলানি জমে যাওয়ার ধারণা থেকে অনেকেই শেষাংশ পান করা থেকে বিরত থাকেন।

তবে এতগুলো কারণের কথা বলা হলেও চায়ের কাপের শেষটুকু নিয়ে রহস্য থেকেই যায়।