সর্দি নাকি অ্যালার্জি, উপসর্গের পার্থক্য বুঝবেন যেভাবে প্রকাশিত: ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬ নাক ভেজা, নাক বন্ধ, নাকে সুরসুর ভাব, একের পর এক হাঁচির মতো উপসর্গগুলো খুবই সাধারণ। তাই এমন সমস্যা হলেই বেশিরভাগ মানুষ ধরে নেন, ঠান্ডা লেগেছে বা সর্দি হয়েছে। কেউ প্যারাসিটামল খান, কেউ গরম পানির ভাপ নেন, আবার কেউ আদা চায়ে গলা ভেজান। কিন্তু এত কিছু করার পরও যদি সমস্যা কমতে না চায়, তাহলে বিষয়টি একটু অন্যভাবে ভাবার সময় এসেছে। কারণ সব সময় এই উপসর্গের নেপথ্যে সর্দি থাকে না। অনেক ক্ষেত্রেই এর কারণ হতে পারে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস। এই সময় ধুলার মাইট, ছত্রাক এবং স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে তৈরি হওয়া বিভিন্ন অ্যালার্জেনের পরিমাণ বাড়তে পারে। ফলে অনেকেরই অ্যালার্জির সমস্যা বেড়ে যায়। সমস্যা হলো, সাধারণ সর্দি এবং অ্যালার্জিক রাইনাইটিস-দুই ক্ষেত্রেই হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো প্রায় একই ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। তাই অনেকেই দুটিকে এক করে ফেলেন। তবে কয়েকটি বিষয় খেয়াল করলে সর্দি আর অ্যালার্জির মধ্যে পার্থক্য করা অনেকটাই সহজ হতে পারে। খেয়াল রাখবেন কীভাবে শুরু হচ্ছে? সাধারণ সর্দি সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয়। প্রথমে গলা খুসখুস করা, অস্বস্তি বা হালকা গলা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এরপর নাক বন্ধ হওয়া কিংবা নাক দিয়ে পানি পড়ার সমস্যা শুরু হয়। অন্যদিকে, অ্যালার্জির উপসর্গ অনেক সময় হঠাৎ করেই দেখা দেয়। যেমন, ধুলাময় জায়গায় গেলে, স্যাঁতসেঁতে বা ছত্রাকযুক্ত ঘরে ঢুকলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই একের পর এক হাঁচি শুরু হতে পারে। জ্বর থাকলে ভাইরাসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীর লড়াই করার সময় সাধারণ সর্দির সঙ্গে হালকা জ্বর, দুর্বলতা বা গা-হাত-পা ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। অ্যালার্জিক রাইনাইটিসের ক্ষেত্রে সাধারণত জ্বর থাকে না। তাই নাক দিয়ে পানি পড়া ও হাঁচির সঙ্গে জ্বর থাকলে সেটি শুধুই অ্যালার্জি কি না, তা ভেবে দেখা দরকার। চুলকানি হচ্ছে কি না অ্যালার্জির অন্যতম পরিচিত লক্ষণ হলো চুলকানি। চোখ, নাক, গলার পেছনে এমনকি মুখের তালুতেও চুলকানি হতে পারে। সাধারণ সর্দিতে নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়লেও এ ধরনের একটানা চুলকানি সাধারণত থাকে না। দীর্ঘদিন চললে সতর্ক হোন সাধারণ সর্দি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিজে থেকেই কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায় এবং সাধারণত ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে অনেকটাই সেরে ওঠে। কিন্তু একই ধরনের উপসর্গ যদি দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকে, দু’সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় অথবা ভালো হয়ে যাওয়ার পর বারবার ফিরে আসে, তাহলে অ্যালার্জির সম্ভাবনাও বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরিবেশ বদলালে উপসর্গও বদলাতে পারে সর্দির উপসর্গ সাধারণত আপনি কোথায় আছেন, তার ওপর খুব বেশি নির্ভর করে না। কিন্তু অ্যালার্জির ক্ষেত্রে পরিবেশের সঙ্গে উপসর্গের সরাসরি সম্পর্ক থাকতে পারে। নির্দিষ্ট কোনো ঘরে ঢুকলেই হাঁচি শুরু হওয়া, ধুলাময় জায়গায় গেলেই নাক চুলকানো কিংবা আর্দ্র সকালে ঘুম থেকে উঠেই নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা অ্যালার্জির ইঙ্গিত হতে পারে। তাই নাক বন্ধ বা হাঁচি হলেই প্রতিবার সর্দি ভেবে নেওয়া ঠিক নয়। উপসর্গ কখন শুরু হচ্ছে, কতক্ষণ থাকছে এবং কোন পরিবেশে বাড়ছে-এসব বিষয় খেয়াল করুন। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা বারবার ফিরে এলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। Download PhotoCard SHARES লাইফস্টাইল বিষয়: উপসর্গের পার্থক্য বুঝবেন যেভাবেসর্দি নাকি অ্যালার্জি